মহামারী করোনাভাইরাসকে শুরুর দিকে সেভাবে গুরুত্ব না দিয়ে ভুগতে হয়েছে ইউরোপের দেশ সুইডেনকে। ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেখানে লকডাউন বা চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করেছে সেখানে সুইডেন সব কিছু খোলা রেখেছিল প্রথম দিকে। অবশ্য সে কারণে তুলনামূলক স্বল্পসংখ্যক জনসংখ্যার দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার ছাড়িয়ে। মারা গেছে প্রায় ৬ হাজার মানুষ। আর এই ৬ হাজারই দেশটিতে একটি নেতিবাচক রেকর্ডের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। স্ক্যান্ডেনেভিয়ান এই দেশে চলতি ২০২০ সালের প্রথম ৬ মাসেই ১৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে।
দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানের বরাতে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে অন্তত ৫১ হাজার ৪০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় কম করে হলেও সাড়ে ৬ হাজার বেশি। দেশটিতে ১৮৬৯ সালের দুর্ভিক্ষের সময় ৬ মাসে ৫৫ হাজার ৪৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
সিএনএন বলছে, আলোচ্য সময়ে দেশটিতে জন্ম হারও কমেছে। ২০১৯ সালের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় এই বছরের একই সময়ে অন্তত ৬ হাজার ৮৬০ জন কম বেড়েছে। এছাড়া চলতি বছরের এই সময়ে আগের বছরের তুলনায় অভিবাসীর সংখ্যাও কমেছে ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
করোনা শুরুর দিকে ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য থেকে শুরু গোটা ইউরোপ যখন এক দিকে হাঁটছিল তখন সুইডেন হাঁটে উল্টোপথে। কিন্তু সুইডিশ নাগরিকদের বড় একটি অংশ তাই এ নীতির কঠোর সমালোচনা করে কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি লিখলেও সরকার পিছিয়ে আসেনি। অবশ্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোভফ্যান এপ্রিল মাসের দিকে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুঝুঁকিতে থাকার কথা স্বীকার করে সবাইকে সতর্ক করেছিলেন।
দেশটির প্রধান এপিডেমিওলজিস্ট অ্যান্ডার্স টেগনেল সবাইকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, মে মাসের শেষ নাগাদ স্টকহোমের ৪০ শতাংশ মানুষ করোনা থেকে ইমিউন হয়ে যাবে। কিন্তু মে মাসের শেষে এসে জরিপ করে দেখা যায় মাত্র ৬.১ শতাংশ মানুষের শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয়েছে। অথচ হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে হলে অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হওয়া দরকার।
