ইরানের ওপর অবরোধ পুনর্বহালে সমর্থন দেবে না যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানি

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২০, ০৯:৩৭ এএম

পরমাণু চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহালে (স্ন্যাপব্যাক) যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ইউরোপের মিত্র দেশগুলো।

আরটি জানায়, এই ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার পর এবার ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানি।

‘ই-থ্রি’ নামে পরিচিত এ তিন দেশ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছে। ফলে এই চুক্তির আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া চালুর অধিকার নেই ট্রাম্প প্রশাসনের।

এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী ইরান চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত না মানলে জাতিসংঘের সব নিষেধাজ্ঞা আবার চালু করার বিধান রাখা হয়েছে।

পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, চীন ও জার্মানির ঐতিহাসিক জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

ওবামা প্রশাসনের সময়কার এ চুক্তি থেকে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

‘ই-থ্রি’র তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র জেসিপিওএ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারা এখন এ চুক্তির স্বাক্ষরিত সদস্যভুক্তদের কেউ নয়। 

ফলে এ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য তাদের বর্তমান প্রচেষ্টা এবং ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরায় চালুর দাবি পুরোপুরি অবান্তর বলেও তারা মনে করেন।

ইরানের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়াতে নিরাপত্তা পরিষদে তোলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দানে বিরত ছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ১১টি দেশ। গত শুক্রবারের এ ভোটাভুটিতে শুধু ডমিনিকান রিপাবলিকের ভোট পায় দেশটি।

প্রস্তাবের কঠোর বিরোধিতা করে রাশিয়া এবং চীন। কমপক্ষে ৯টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে সায় না দিলে ভেটো প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না। ভোটে হারলে আগে থেকেই ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া শুরুর হুমকি দিয়েছিল তারা। এখন এই প্রক্রিয়া শুরু করতে নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়েছে তারা।

ইরান ও প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে হওয়া ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অধীনে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী অক্টোবরে শেষ হচ্ছে।

এদিন নিজেদের পরাজয়ের কথা জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বিবৃতিতে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাদের এমন কর্মকাণ্ড অমার্জনীয়।’

চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাং জুনের ভাষ্য ছিল, এই ভোট আবার দেখিয়ে দিয়েছে একতরফা সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো সমর্থন নেই। অন্যকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা ব্যর্থ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত