চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার লাল মোহাম্মদীয়া সড়কের মোহছেন আউলিয়া খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে পড়ে আছে চার বছর ধরে। এ ঘটনায় বেহাল হয়ে পড়েছে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটিও। এতে দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বরুমচড়া ও জুঁইদ-ী ইউনিয়নের ২০ সহস্রাধিক বাসিন্দা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেতুর দুই প্রান্তে দুটি সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। তবে সাঁকো দুটি সেতু অপেক্ষা কিছুটা উঁচু হওয়ায় রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
এলাকাবাসী জানান, বরুমচড়া ও জুঁইদ-ী ইউনিয়নবাসীর একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এই লাল মোহাম্মদীয়া সড়ক। সড়কটি দিয়ে বরুমচড়া ভূমি অফিস, তৈলারদ্বীপ সরকারহাট, বটতলী রুস্তমহাটসহ জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। সড়কটি দিয়ে একসময় অটোরিকশা, মিনি ট্রাকসহ ছোট ছোট যান চলাচল করত। কিন্তু সেতু ভেঙে যাওয়ায় চার বছর ধরে সেটিও বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ওঠানামার কারণে সেতুটি ধসে পড়ে। এরপর থেকেই সড়কটি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে স্থানীয়দের উদ্যোগে সেতুর দুই পাশে সাঁকো নির্মাণ করে কোনো রকমে চলছে যাতায়াত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বরুমচড়া ইউনিয়নের তিন কিলোমিটার ও জুঁইদ-ী ইউনিয়নের আধা কিলোমিটার অংশে ইট এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে। ইটের মাঝখান থেকে বালু ও মাটি সরে গেছে। সড়কের মাঝখান দিয়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টকর। ওই সড়কের সেতুর উভয় পাশের মাটি সরে গিয়ে সেতুটি খালে হেলে পড়েছে। সেতুর দুই পাশে পারাপারের জন্য বাঁশ দিয়ে ছোট দুটি সাঁকো দেওয়া হয়েছে। এলাকার লোকজন ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন।
বরুমচড়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুল গফুর জানান, সেতুটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ধসে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। চার বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্র্তৃপক্ষ। স্থানীয় উদ্যোগে কাঠ-বাঁশ দিয়ে সেতু মেরামত করা হয়। তবে বাঁশের খুঁটি নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বরুমচড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সেতু নির্মাণের কথা বলতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনেকবার গিয়েছি। আগামী বছর ওই স্থানে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে বলে তারা জানিয়েছেন।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সেখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী তাসলিমা জাহান বলেন, ‘লাল মোহাম্মদীয়া সড়ক সংস্কারের স্কিম তালিকা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।’
