রাজধানীর পল্লবীতে গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেনকে (৩৩) পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে হত্যা মামলার রায় ৯ সেপ্টেম্বর ঘোষণা হবে। সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন।
নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে প্রথম কোনো মামলার রায় হচ্ছে। এ মামলার পাঁচ আসামির তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা।
তারা হলেন পল্লবী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদুল ইসলাম ও এএসআই কামরুজ্জামান। অপর দুই আসামি হলেন পুলিশের কথিত সোর্স সুমন ও রাসেল।
তবে এএসআই কামরুজ্জামান এবং সোর্স রাসেল পলাতক। আর কারাগারে আছেন এসআই জাহিদুর রহমান এবং সুমন। জামিনে আছেন এএসআই রাশেদুল ইসলাম।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তাপস কুমার পাল বলেন, ‘নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণার দিন ঠিক করলেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আদালতের কাছে চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা আশা করি, আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দেবেন। এই আইনের সর্বোচ্চ সাজা হচ্ছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, এ আইনের প্রথম কোনো মামলার রায় হতে যাচ্ছে। তারা আদালতের কাছে দাবি করেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। তারা আশা করেন, এই মামলায় তার মক্কেল বেকসুর খালাস পাবেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সেকশন-১১, ব্লক-বি ইরানি ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. সাদেকের ছেলে মো. বিল্লালের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানে পুলিশের সোর্স সুমন মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ সময় সেখানে থাকা ইশতিয়াক হোসেন ও তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেনকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে সুমনের সঙ্গে দুই ভাইয়ের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে সুমনের ফোন পেয়ে পুলিশ এসে দুই ভাইকে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে দুই ভাইকে নির্যাতন করা হয়। এ সময় ইশতিয়াকের অবস্থা খারাপ হলে তাকে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ঘটনায় ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে ইশতিয়াকের ভাই ইমতিয়াজ পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
