পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির সঙ্গে নামের মিলের কারণে ভোলার মো. লিটন নামে এক দিনমজুরকে প্রায় আট মাস ধরে কারাগারে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে এ আবেদনটি করা হয়। গত ২২ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান ও ইয়াদিয়া জামান।
অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান জানান, আবেদনে লিটনের পরিচয় নিশ্চিত করতে তাকে ভার্চ্যুয়ালি কিংবা সশরীরে হাইকোর্টে হাজির করা এবং যাচাই শেষে তার কারামুক্তির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। কার্যতালিকায় আসলে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে এর ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান তিনি।
আসকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না এ মামলায় শুনানি করবেন।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, সাজাপ্রাপ্ত লিটন ও কারাগারে যাওয়া দিনমজুর লিটনের নাম- ঠিকানা একই। দুজনেরই বাবার নাম নুর ইসলাম এবং তারা মারা গেছেন। এছাড়া দুজনেরই গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলী গৌরনগর ইউনিয়নের চতলা গ্রামে। তবে, সাজাপ্রাপ্ত লিটনের বয়স ৪১ হলেও কারাগারে থাকা লিটনের বয়স ৩০।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৮ জুন পল্টন থানার আহাদ পুলিশ বক্সের সামনে থেকে ভারত ও পাকিস্তানের তৈরি আমদানি নিষিদ্ধ চেতনানাশক ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার হন লিটনসহ তিনজন। এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা দায়ের হয়। কিন্তু বিচার শুরু হওয়ার আগেই তিন আসামি জামিন নিয়ে পলাতক হন। ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়। এ মামলায় দিনমজুর লিটনকে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সেই থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি।
