রাষ্ট্রীয় সম্মান না দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন

প্রতিবাদ সমাবেশে বাঁশখালীর এমপির অনুসারীদের হামলা

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২০, ০৩:০৮ এএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় প্রয়াত এক মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান না দেওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে হামলায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড আয়োজিত সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আয়োজকদের দাবি, বাঁশখালী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী বাঁশখালীর পৌর মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে এ হামলা করা হয়।

এদিকে হামলার ঘটনায় পৌর মেয়র, এমপির এপিএস এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান রাসেলসহ ২৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম প্রতিবাদকারী প্রয়াত মৌলভী সৈয়দের ভাতিজা জহির উদ্দিন মো. বাবর। পরে রাসেল (৩৫), এনামুল হক (৩০), আবুল কালাম (৪০) ও মিজানুর রহমান (৩৫) নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত ২৬ জুলাই প্রয়াত মৌলভী সৈয়দের ভাই মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ মারা যান। পরদিন গার্ড অব অনার ছাড়া বাঁশখালীর নিজ বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধারা তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান না দেওয়ার পেছনে স্থানীয় এমপির ইন্ধনের অভিযোগ করেন। এরই মধ্যে গত ২৮ জুলাই বিষয়টি তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

ডা. আলী আশরাফকে রাষ্ট্রীয় সম্মান না দেওয়া এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এমপির অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল সমাবেশ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ চলাকালীন পৌর মেয়রের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে ৪০-৫০ জন চড়াও হয়। এ সময় তারা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে ও মাইক ভাঙচুর করে। হামলায় চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, বাঁশখালীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাশেম, সাতকানিয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তাহের, মৌলভী সৈয়দের ভাতিজা জয়নাল আবেদীন, জহির উদ্দীন মো. বাবর, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, ফটো সাংবাদিক আকতার হোসেনসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন। তবে একপর্যায়ে পৌর মেয়র শেখ সেলিমুল হককে আন্দোলনকারীরা ধাওয়া দিলে তিনি পালিয়ে যান।

চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মোজাফফর আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সম্প্রতি স্থানীয় এমপি বাঁশখালীতে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি এবং মৌলভী সৈয়দ মুক্তিযোদ্ধা নন বলে বিষোদগার করেন। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে সকালে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। হঠাৎ গাড়িভর্তি লোকজন এসে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সবাই এমপির অনুসারী। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।’

মামলার বাদী জহির উদ্দিন মো. বাবর বলেন, ‘বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারী পৌর মেয়র শেখ সেলিমুল হক, বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, এমপির এপিএস রাসেল, পৌর কাউন্সিলর দিলীপ চক্রবর্তী শিবুসহ অন্যরা হামলা চালিয়েছে। আমরা ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

অভিযোগের বিষয়ে শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সমাবেশে হামলার বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আমি অসুস্থ, পরে কথা বলব।’ এ বিষয়ে বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, সমাবেশে হামলার ঘটনায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত