থাইল্যান্ডে রাজদ্রোহে কেন শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২০, ১২:৩৩ এএম

থাইল্যান্ডে ২০১৪ সালের ক্যুর পর সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছে দেশটির প্রশাসন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানী ব্যাংককের রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। দিনকে দিন বিক্ষোভের মাত্রা বেড়েই চলছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ক্রমশ গণবিক্ষোভে রূপ নিচ্ছে। কেন শিক্ষার্থীরা থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন, এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে এক বিতর্কিত আইন।

থাই আইন অনুযায়ী রাজপরিবারের সমালোচনা করলে দীর্ঘদিন কারাভোগের বিধান রয়েছে। ২০১৪ সালে সাবেক সেনাপ্রধান প্রায়ুত এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজাকে তার নিয়ন্ত্রণে নেন। পাঁচ বছর জান্তা শাসনে নতুন সংবিধান প্রণয়নের পর গত বছর নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। বেসামরিক সরকার পরিচালনার জন্য প্রায়ুতকে ভোট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এটিই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সংবিধান নতুন করে প্রণয়ন ও নাগরিকদের হয়রানির সব বিধান বিলুপ্ত করতে হবে। তাদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রাজপরিবারের সমালোচনায় ১৫ বছর কারাভোগ থেকে মৃত্যুদণ্ডের আইনও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের এসব দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিলেও অনেকে আবার ‘রাজতন্ত্রকে স্পর্শ’ না করতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।

সেনাপ্রধান আপিরাত কংসোমপং সতর্ক করেছেন, ঘৃণা জাতির জন্য একটি অসহনীয় রোগ। আর প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহেই আন্দোলনকারীদের দাবি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেন। যদিও পরে তিনি ঐক্যের ডাক দেন। এমন অবস্থায় থাইল্যান্ডের বিক্ষোভের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষকরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

একসময় থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্র কিংবা রাজার বিপক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলা অকল্পনীয় ছিল। কিন্তু গত জুলাইয়ে এই ট্যাবু ভেঙে দিয়েছেন কয়েকজন আন্দোলনকারী। তাদের মধ্যে অগ্রগামী ৩৬ বছরের আইনজীবী আনোন নাম্পা। রাজাকে অবমাননা করা হলে ১৫ বছরের জেল হতে পারে এমন আইন সত্ত্বেও তিনি ভয় পান না। ক্ষমতায় সংস্কারের ডাক দিয়ে চলতি মাসের শুরুতে শুরু হওয়া হ্যারি পটার ধাঁচের যে বিক্ষোভ ব্যাংককে শুরু হয় তাতে আইনজীবী আনোন নাম্পা প্রথম থেকেই সম্পৃক্ত আছেন। সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।

রাজপরিবারের বিষয়ে নরেসুয়ান ইউনিভার্সিটির পল চ্যাম্বার্স বলেন, আন্দোলনকারীরা কার্যকর জিনিসই সামনে এনেছেন। কিন্তু ইতিহাস ভয়কে সামনে আনছে। ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে এমনই এক আন্দোলনের সমাপ্তি হয়েছিল থামসাত ইউনিভার্সিটিতে গণহত্যার মধ্য দিয়ে। রাজতন্ত্র এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের মদদে সামরিক বাহিনী গুলি ও পিটিয়ে শিক্ষার্থীদের হত্যা করে। এবারও একই পরিণতি হবে কি-না তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে একাধিক পক্ষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত