সরকারের নির্বাহী আদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার আবেদনের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদনপত্রটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে আবেদনের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের লিখিত আবেদন আমরা পেয়েছি। তার আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি চেয়ারপারসনের এক স্বজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এর আগে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তার মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৫ মার্চ মুক্তি পান খালেদা জিয়া। আবেদনে যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন তাকে দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি সরকার। এবার আবারও বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করি সরকার খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেবে। গত ২৬ আগস্ট তার মুক্তির আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
কারামুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সরকারের কাছে আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার মেঝো বোন সেলিমা ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ। তাই খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় যেতে পারিনি। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।
গত ২৪ মার্চ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার গুলশানের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ সরকার শর্তসাপেক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছয় মাসের জন্য তার সাজা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুটি শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সেগুলো হলো এই সময়ে তাকে ঢাকায় নিজের বাসায় থাকতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। তিনি বলেন, ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণের শর্তে এবং এই সময় বিদেশে গমন না করার শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমি মতামত দিয়েছি।
খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সরকারের কাছে আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে জানান, এ বিষয়ে তার জানা নেই। তবে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা দরকার। এ জন্য তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো দরকার। করোনাভাইরাসের কারণে দেশে অন্যান্য চিকিৎসার সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের নির্দেশনায় দলের একটি চিকিৎসক দল খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছেন।
৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ থেকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। তার মধ্যে গত ১১ মাস ধরে তিনি বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়।
