সাভারের আশুলিয়ায় যৌতুকের দাবিতে বোনকে মারধরের খবর শুনে ভগ্নিপতির বাড়িতে বোনকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছে আপন তিন ভাই। রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে আশুলিয়ার মধ্য চারাবাগ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত এক বছর আগে মধ্য চারাবাগ এলাকার মৃত ফয়েজ মিয়ার মেয়ে ফারজানা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার মানিক মুনশির ছেলে মনির হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মনির যৌতুক চেয়ে বিভিন্ন সময় স্ত্রী ফারজানা খাতুনের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে ফারজানা খাতুনের সংসারের উন্নতির কথা ভেবে তার তিন ভাই মিলে দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দেন।
সম্প্রতি আবারও বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এবং একটি মোটরসাইকেল আনার জন্য ফারজানা খাতুনকে চাপ সৃষ্টি করছিল স্বামী মনির হোসেন। বিষয়টি নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে মনির হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা ফারজানা খাতুনকে মারধর শুরু করেন।
বোনকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় তার তিন ভাই ফিরোজ কবির, জহিরুল ইসলাম ও মমিনুল ইসলাম। পরে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভগ্নিপতি মনির হোসেন ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ওই তিন ভাইয়ের ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তিন ভাইকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে আহত তিন ভাই জানান, স্থানীয়রা সময়মতো তাদের চিৎকারে ঘটনাস্থলে না আসলে ভগ্নিপতি মনির হোসেন তাদের মেরে ফেলতো।
তবে এ বিষয়ে মনির হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
আশুলিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক(এএসআই) সাইমুন মিয়া বলেন, ৯৯৯ এ কল পেয়ে রাতেই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধরে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার হয়। একপর্যায়ে বোন জামাই ও তার পরিবারের সদস্যদের হামলায় গুরুতর আহত হয় স্ত্রীর তিন ভাই। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
