বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র খানসামা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলা বিএনপির এক পক্ষের নেতাকর্মীরা আহ্বায়ক কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।
এর আগে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রেজিনা ইসলাম স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই আহ্বায়ক কমিটিতে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় খানসামা উপজেলার ব্যবসায়ী ও উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সদস্য মাহফুজুর রহমানের বড় ভাই মিজানুর রহমান চৌধুরীকে। কিন্তু উপজেলা বিএনপির একটি পক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরীকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মানতে অনাস্থা প্রকাশ করেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন মিজানুর রহমান চৌধুরী ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে এই পদ হাতিয়ে নিয়েছেন।
আহ্বায়ক কমিটি হওয়ার পর সর্বশেষ গত ২৩ আগস্ট খানসামা উপজেলার পাকেরহাটের বাইপাসে (চৌধুরী রাইস মিল) দুপুরে আহ্বায়ক কমিটির সভা ডাকা হলে সেখানে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কয়েকজন নেতা ও কয়েকশ কর্মী প্রতিবাদ জানাতে যায়। পরে আলোচনা সভা ভ-ুল হয় বলেও জানান বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন শীর্ষ নেতা।
খানসামা উপজেলার যুব দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী মাস্টার অভিযোগ করে বলেন, একজন ব্যবসায়ীকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আহ্বায়ক পদে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। আমরা যারা যুগ যুগ ধরে বিএনপির জন্য মামলা হামলার শিকার হয়েছি তারা পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছি।
উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. শামসুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, ‘এই আহ্বায়ক কমিটিতে এমন কতগুলো লোক এসেছে যারা দলের জন্য কিছুই করেননি। দলের জন্য যাদের কোনো ভূমিকাই নেই। র্দীঘদিন ধরে যারা দলের হাল ধরে ছিল তাদের আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়নি। মাত্র দশ টাকায় একটি সদস্য পদ কিনে মিজানুর রহমান চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি মাত্র এক মাসের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটিতে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পায় এই বিষয়টা আমাদের কিছুতেই মাথায় আসে না!
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খানসামা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘টাকা দিয়ে পদ পাওয়া গেলে অনেকেই আজকে এমপি মন্ত্রী হতেন। টাকা দিয়ে পদ নেওয়ার বিষয়ে যারা অভিযোগ করেছেন তারা মিথ্যে, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে কেন্দ্র থেকে আমাদের এই কমিটি দেওয়া হয়েছে। যারা বিরোধিতা করছেন তাদের আমি বারবার বলেছি আমাদের সঙ্গে বসার জন্য। কিন্তু তারা বসে না। বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন কথা বলে।
জানতে চাইলে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রেজিনা ইসলাম বলেন, খানসামা এবং চিরিরবন্দর উপজেলা বিএনপির কমিটি আমরা দেইনি। আমরা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। পরে কেন্দ্র থেকে তাদের কমিটি দেওয়া হয়েছে।
