সিটিটিসির রিমান্ডে তথ্য

বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নব্য জেএমবি!

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২০, ০২:৪৮ এএম

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস অনুপ্রাণিত বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সিরিয়াফেরত ‘মুজাহিদদের’ তা সরবরাহ করতেন নব্য জেএমবির ‘গুরুত্বপূর্ণ সদস্য’ শিব্বির আহমাদ (২২)। আর অর্থ সংগ্রহ ও সরবরাহের জন্য তিনি বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ‘ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন’ ব্যবহার করতেন বলে তথ্য মিলেছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরুর পর সিটিটিসির তদন্তকারী দলকে এসব তথ্য জানিয়েছেন শিব্বির।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সিটিটিসির একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, নব্য জেএমবির সদস্য শিব্বির আহমাদ খুবই ধূর্ত প্রকৃতির। তিনি একাধিক ভাষায় যোগাযোগে পারদর্শী; বিশেষ করে আইএস অনুপ্রাণিত বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইংরেজি ভাষায় কথা বলার দক্ষতা রয়েছে তার। অন্তত ডজনখানেক সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে অনলাইনে অসংখ্য আইডি খুলে আইএস অনুপ্রাণিত বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের অসংখ্য গ্রুপ পরিচালনা করতেন তিনি। ফিলিপিন, ইন্দোনেশিয়া, আমেরিকা, ফ্রান্স, ইরাক ও  সিরিয়ার আইএস অনুপ্রাণিত নাগরিকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন শিব্বির। ‘ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে’ অংশগ্রহণকারী ‘মুজাহিদদের’ আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের কাজ করেছেন। সংগৃহীত অর্থের কিছু অংশ তিনি নিজে খরচ করেছেন, বাকি অর্থ সিরিয়াফেরত আইএস ‘মুজাহিদ’ (যোদ্ধা), যারা বিভিন্ন দেশের নাগরিক, তাদের সহায়তার জন্য সরবরাহ করেছেন। অর্থ সংগ্রহ ও সরবরাহের জন্য তিনি বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ‘ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন’ ব্যবহার করেছেন।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে জঙ্গি সদস্য শিব্বির ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার মতো জেএমবির আরও অনেকেই এই পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করে নব্য জেএমবির সাংগঠনিক কাজে ব্যয় করার পাশাপাশি আইএস মুজাহিদদের সহায়তা করে যাচ্ছেন।

সিটিটিসির উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত নব্য জেএমবির ‘গুরুত্বপূর্ণ সদস্য’ শিব্বির আহমাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার অর্থ সংগ্রহ ও সরবরাহের বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তার দেওয়া তথ্যের আলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে  অর্থ প্রদান ও গ্রহণকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’

সিটিটিসির আরেক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিব্বির আহমাদ ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের ব্যাংকিং চ্যানেলে লাখ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছেন। আবার সিরিয়াফেরত বিভিন্ন দেশের আইএস যোদ্ধাদের কাছে তা সরবরাহও করেছেন। এসংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলাকারী নব্য জেএমবির সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল শিব্বিরের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে যাদের অধিকাংশই মারা যান। অনেকেই গ্রেপ্তার হন। পরবর্তী সময়ে নব্য জেএমবির আমির হিসেবে মুসা দায়িত্ব নেন। তখন মুসার সঙ্গে শিব্বির আহমাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সিলেটের মৌলভীবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মুসা মারা যাওয়ার পর শিব্বির আহমাদ কিছুদিন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকেন। ২০১৮ সালে পুনরায় অনলাইনের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত হন। অনলাইনে বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করে আইএস অনুপ্রাণিত বিদেশি বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, আফগানিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশের আইএস অনুপ্রাণিত সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন। দেশে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশে^র বিভিন্ন দেশের নাগরিকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। এই জঙ্গি সদস্যের কাছে সংগঠনটির বিভিন্ন বিস্ফোরকদ্রব্য মজুদ রাখা হতো। পরে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহের কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। শিব্বির আহমাদের বাড়ি মাগুরায়। রাজধানীর বাসাবো সাইদিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৭ সালে দাখিল পাস করার পর বিভিন্ন মসজিদের মুয়াজ্জিন ও সহকারী ইমামের কাজের অন্তরালে উগ্রবাদী ধারণা প্রচার ও জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তার বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত