আড়াই দশক আগে রুয়ান্ডার কুখ্যাত গণহত্যা থেকে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণ রক্ষাকারী পল রুসেসাবাগিনাকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বিবিসি জানায়, সন্ত্রাসবাদ, অগ্নিসংযোগ ও খুনসহ একাধিক অভিযোগে রুসেসাবাগিনাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে রুয়ান্ডার তদন্ত ব্যুরো এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে।
১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডা গণহত্যার সময় রাজধানী কাগিলের একটি হোটেলের ব্যবস্থাপক ছিলেন রুসেসাবাগিনা। সেসময় ১২০০ এর বেশি মানুষকে আশ্রয় দিয়ে সহিংসতার শিকার হতে তাদের বাঁচাতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেন তিনি।
পরে এ ঘটনার অনুপ্রেরণায় উত্তর আয়ারল্যান্ডীয় পরিচালক টেরি জর্জ নির্মাণ করেন তার বিখ্যাত সিনেমা ‘হোটেল রুয়ান্ডা’।
ধারণা করা হয়, রুয়ান্ডার সেই গণহত্যায় তুতসি ও হুতু জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল। রুসেসাবাগিনা নিজেও ছিলেন হুতু জনগোষ্ঠীর লোক।
তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিয়মিত সমালোচনা করে আসছিলেন রুসেসাবাগিনা গত কয়েক বছর ধরে।
সোমবার টুইটারে দেওয়া বিবৃতিতে রুয়ান্ডার তদন্ত ব্যুরো ৬৬ বছর বয়সী রুসেসাবাগিনাকে ‘একাধিক সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, পৃষ্ঠপোষক, নেতা ও সদস্য’ হিসেবে অভিহিত করে।
রুয়ান্ডা মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেটিক চেঞ্জের একটি সামরিক শাখা বাইরে থেকে দেশটির ভেতরে হামলা চালিয়ে আসছে। ফলে তাদের ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে বিবেচনা করে রুয়ান্ডা সরকার।
গোষ্ঠীটিকে মদদ দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে রুসেসাবাগিনার বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলায় সহযোগিতার অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
যদিও এসব অভিযোগের সপক্ষে কোনো ধরনের প্রমাণ দেয়নি রুয়ান্ডা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া রুসেসাবাগিনাকে কবে, কখন, কোথায় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেয়নি রুয়ান্ডা তদন্ত ব্যুরো।
বৃহস্পতিবার দুবাই থেকে স্ত্রীর সঙ্গে রুসেসবাগিনারের শেষবার কথা হয়েছিল বলে জানায় শিকাগোভিত্তিক হোটেল রুয়ান্ডা রুসেসাবাগিনা ফাউন্ডেশন।
তাদের দাবি, অপহরণের শিকার হয়েছেন রুসেসাবাগিনা এবং অস্বাভাবিক উপায়ে তাকে রুয়ান্ডায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রুয়ান্ডা সরকার তার সমালোচকদের চুপ করিয়ে দিতে এসব মিথ্যা অভিযোগ আনছে। রুসেসাবাগিনাও তার শিকার।
