সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত ৫৬ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করছে সরকার। চারটি আন্তর্জাতিক করিডোরের সঙ্গে যুক্ত মহাসড়কটির চার লেনে উন্নীত করতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প পাস হয়। এ ছাড়া আরও ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা থেকে আসবে ৪ হাজার ৫৯৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আর সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ২ হাজার ৭১ কোটি টাকা।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গণভবনেই উপস্থিত ছিলেন। একনেকের বাকি সদস্যরা ছিলেন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে। সভা শেষে সাংবাদিকদের সভার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্রিফ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী। সভায় জানানো হয়, সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য ৫৬ দশমিক ১৬ কিলোমিটার। চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি এর দু’পাশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা দুটি লেনও নির্মাণ করা হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেবে এআইআইবি। বাকি ৬১৫ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।
ব্রিফিংয়ে এম এ মান্নান বলেন, পর্যায়ক্রমে সব আন্তঃজেলা সড়ক, মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। এর অংশ হিসেবেই সিলেট-তামাবিল সড়ক চার লেন করা হচ্ছে। চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলা সদরের সঙ্গে মতলব উত্তর উপজেলার উন্নত সড়ক যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। এ জন্য ‘মতলব-মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবাঁধ (জেড-১০৬৯) সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প পাস হয়েছে একনেকে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে হবে। প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
সভায় আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী পাস হয়। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৪৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বিশ^ব্যাংক এতে ঋণ হিসেবে দেবে ১ হাজার ৬২৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। বাকি টাকা জিওবি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে দেওয়া হবে। খাদ্য অধিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্প বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, খাদ্য সংরক্ষণাগার তৈরির জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিকের মটকা (পাত্র) কিনে দেওয়া হবে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় খাদ্যশস্য নষ্ট হবে না। এছাড়া বড় বড় সাইলো তৈরি করা হবে। মন্ত্রী জানান, দেশীয় মাছ সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের ছোট মাছ যেন নষ্ট না হয় সেটি খেয়াল রাখতে বলেছেন।
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো সারা দেশে পুকুর-খাল উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আর ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
