পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. সিনহা রাশেদ খানের নিহত হওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি তদন্ত শেষ করেছে। তারা ১২টি সুপারিশ সংবলিত ৮০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন সোমবার জমা দেবে। তদন্ত কমিটির প্রধান, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কক্সবাজারে হিলটাউন সার্কিট হাউসে শনিবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে তিনি উল্লেখ করেন, আমরা ঘটনার উৎস সম্পর্কে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি। এ ধরনের ঘটনার যাতে অবতারণা না ঘটে সে ব্যাপারেও সুপারিশ করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে কমিটির সদস্য লে. কর্নেল সাজ্জাদ জানান, মেজর অব. সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের ঘটনা সবার বিবেককে ব্যথিত করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও পেশাদারি, চেইন অব কমান্ড মেনে চলা উচিত।
তিনি জানান, আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষকে পরিণত না হই। আমাদের ওপর সরকার অস্ত্র দিয়ে যে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে তা যেন অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করতে পারি।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি অস্ত্র যেন মানব থেকে দানবে পরিণত না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জমা দেওয়া-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন কমিটির সদস্যরা।
এর মধ্যে দিয়ে চার দফা সময় নিয়ে ৩৫ দিনের মাথায় তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানান কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান ।
তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে গেছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত সংবলিত প্রতিবেদনটি প্রায় ৮০ পৃষ্ঠার। প্রতিবেদনের সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে জন্য করণীয় সম্পর্কে একটি সুপারিশমালাও প্রণয় করা হয়েছে। দুটিই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেওয়া হবে।
৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়ায় পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় গত ২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলিকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
এতে সদস্য করা হয় কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন এবং সেনাবাহিনীর রামু-১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডারের একজন প্রতিনিধিকে।
কিন্তু এর পরদিনই তদন্ত কমিটি ৪ সদস্য বিশিষ্ট করে পুনর্গঠন করা হয়। এতে কমিটির প্রধান করা হয় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির আলোকে এতে সদস্য করা হয় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলি, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. জাকির হোসেন এবং সেনাবাহিনীর রামু-১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডারের প্রতিনিধি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাজ্জাদকে।
গত ৩ আগস্ট তদন্ত কমিটি আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করে। এ সময় কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সরকার ৭ কর্মদিবস সময় নির্ধারণ করে দেয়। যদিও পরে তিন দফা সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এর মধ্যে বরখাস্ত ওসি প্রদীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিতে আরো ৭ দিনের সময় চায় এবং তা বাড়ানো হয় ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। গত ৩ সেপ্টেম্বর ওসি প্রদীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত দল।
