টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও কলেজের শিক্ষক পরিচয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপবৃত্তি পাওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই অভিনব কৌশলটি এখন মির্জাপুরের সর্বত্র আলোচিত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে উপবৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে কলেজে পাঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারপর শুরু হয় বিভিন্ন নম্বর থেকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং শিক্ষক পরিচয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মোবাইলে প্রতারক চক্রের ফোন। প্রতারকরা কল করে নাম-ঠিকানা, মা-বাবার নাম বা কলেজের ক্লাস রোল উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের বলছে, ‘তোমার দুবছরের উপবৃত্তির টাকা জমা হয়েছে। তুমি কি টাকা তুলবে, না তুলবে না’ কেউ টাকা তুলতে রাজি হলে প্রতারকরা বলে, ‘এই বিষয়ে কারও সঙ্গে আলাপ করা যাবে না। ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে টাকা পাঠাতে হবে।’
তখন সরল মনে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকরা প্রতারকদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে নির্ধারিত অংকের টাকা পাঠান। এভাবে প্রতারকরা মন্দিরাপাড়া গ্রামের এক ব্যবসায়ীর মেয়ের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মির্জাপুর কলেজের এক ছাত্রীর কাছ থেকে নিয়েছে ২৭ হাজার ৭০০ টাকা। এ ছাড়া মির্জাপুর পৌর এলাকার সাহাপাড়া, পাহাড়পুর ও সরিষাদাইড়সহ বিভিন্ন এলাকার অনেক শিক্ষার্থী প্রতারণার শিকার হয়ে হাজার হাজার টাকা খুইয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মির্জাপুর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফারজানা রহমান বলেন, আমাদের কলেজের কোনো শিক্ষক এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নন। এটি প্রতারক চক্রের কাজ। শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, উপবৃত্তির বিষয়ে টাকা চাওয়া বা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে কেউ যেন আর্থিক লেনদেন না করেন।
