মাত্র একজন নেতা দিয়ে চলছে দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। তিনিও আবার জোড়া খুনের মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত (চার্জশিটভুক্ত) আসামি। বর্তমান কমিটির সভাপতি আবু ইমাম জাফর রজব জোড়া খুনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হলে তাকে বহিষ্কার করা হয় কেন্দ্র থেকে। মাত্র দুজন নেতার কমিটির মধ্যে সভাপতিকে বহিষ্কারের পর সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জাকির স্বপদে বহাল থাকলেও তিনিও জোড়া খুনের মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হয়েছেন। ফলে পদে থাকলেও কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না। এতে করে দিনাজপুরে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এ পরিস্থিতিতে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা।
সংগঠনের বেশ কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য তালিকা করে কেন্দ্রে পাঠালেও কেন্দ্র তার অনুমোদন দেয়নি। ফলে দুই নেতা দিয়েই বছরের পর বছর ধরে দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু এরই মধ্যে বর্তমান কমিটির সভাপতি আবু ইমাম জাফর রজব জোড়া খুনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হলে তাকে বহিষ্কার করা হয় কেন্দ্র থেকে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। আর সভাপতিকে বহিষ্কারের পর সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জাকির স্বপদে বহাল থাকলেও তিনিও কিছুদিন আগে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জোড়া খুনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হয়েছেন। ফলে পদে থাকলেও কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না জাকির। এতে করে দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগে বলতে গেলে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে চার্জশিটভুক্ত আসামি জাকারিয়া জাকিরকে দল থেকে বহিষ্কার করে নতুন কমিটি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের সাধারণ কর্মীরা। তাদের বেশিরভাগই মনে করছেন, জোড়া খুনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার পর সভাপতি রজবকে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক জাকিরের বিষয়ে কেন্দ্র এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক কর্মী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুইজনের কমিটির মধ্যে সভাপতি আবু ইমাম জাফর রজব যখন একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান চার্জশিটভুক্ত আসামি হলেন, তখন কেন্দ্র থেকে তাকে বহিষ্কার করা হলো। পরবর্তী সময়ে সাধারণ সম্পাদকও চার্জশিটভুক্ত তিন নম্বর আসামি হলেন। কিন্তু দল তাকে বহিষ্কার করল না। ফলে আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা হতাশ। এই দুর্যোগকালীন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছি না। পুরাতন এই কমিটিকে ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে আহ্বান জানাই।’
এদিকে বেশ কিছুদিন আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিষয়টা দেখছি। যখনই আমাদের এরকম কোনো কিছু দৃষ্টিগোচর হয়, তখনই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’
তবে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যের পর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। নতুন করে কমিটি দেওয়ার কোনো উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়।
দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যক্রমে স্থবিরতার বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি দুদিন ধরে অসুস্থ। আমি করোনা পজিটিভ। তবে বিষয়টা দেখব।’
