চাকরি হারানোর শঙ্কায় ৩৬ শিক্ষক-কর্মচারী

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৪৩ এএম

চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়ায় বাদ পড়ার শঙ্কায় ভুগছেন সাভার সরকারি কলেজের ৩৬ শিক্ষক-কর্মচারী। ৬ থেকে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত থাকার পরও স্থায়ীকরণ তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। এর জন্য সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও অবহেলাকেই দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের ভাষ্য, চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য নিয়োগ বোর্ড গঠন করে দুই বছরের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও অদ্যাবধি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কয়েক দফায় প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে, যার তদন্তও হয়েছে। কিন্তু চাকরি আদৌ স্থায়ী হবে কি না, তা কেউ বলতে পারছে না।

একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে বিভিন্ন বিভাগে জাতীয় পত্রিকাসমূহে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতেই অস্থায়ীভাবে যোগদান করেছি। বর্তমানেও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি, অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে পাঠদানসহ অ্যাকাডেমিক সব কাজ এবং জাতীয় কাজে নিয়োজিত থেকে কলেজ কর্র্তৃক পূর্ণাঙ্গ মাসিক বেতন, ভাতাদিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছি। কয়েক দফায় প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করার পরও চাকরি স্থায়ীকরণের তালিকায় আমাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।’

কলেজটির শারীরিক শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক ইমরান হোসেন বলেন, ‘২০১৬ সালের ৩০ জুন সারা দেশের ২৯৯টি কলেজের সঙ্গে সাভার কলেজকেও জাতীয়করণ করা হয়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী কলেজ সরকারিকরণের আগেই আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণের কথা থাকলেও সাবেক অধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস খান আমাদের ঝুলিয়ে রাখেন। বর্তমানে আমাদের নতুন করে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার বয়সও পার হয়ে গেছে। এখন যদি চাকরিটা স্থায়ী না হয় তাহলে আমাদের লেখাপড়ার কোনো মূল্যই থাকবে না, এমনকি পরিবারের কাছেও মুখ দেখাতে পারব না।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা ফাহমিদা পারভীন বলেন, ‘চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়ায় আমরা অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি এবং অন্যরা আমাদের খাটো করে দেখে। সব যোগ্যতা সম্পন্ন করা সত্ত্বেও আমাদের চাকরি কেন স্থায়ীকরণ করা হচ্ছে না, তা নিয়ে সবাই শঙ্কায় আছি।’ কর্মচারী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘প্রায় ১১ বছরের চাকরি জীবনে আমি কলেজটিতে জাতীয় পরীক্ষাসহ সব ধরনের কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে আসছি। আমার পর চাকরি নিয়ে অনেকেই স্থায়ী হয়ে গেলেও বর্তমানে চাকরি হারানোর ভয়ে আছি।’

সাভার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ দিল আফরোজা শামীম বলেন, ‘কলেজের ৩৬ শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য একাধিকবার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু নিয়োগ দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস খান একটি ভুয়া চিঠির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস খান বলেন, ‘পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েই নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী বোর্ড থেকে লোকজন এসে তাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে। কিন্তু পরে বোর্ডের সিদ্ধান্তেই নিয়োগ স্থগিত করা হয়।’

মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (মাউশি) উপপরিচালক সৈয়দ আমীর আলী বলেন, ‘সাভার সরকারি কলেজের ৩৬ শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য ডিজি অফিস থেকে সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ফাইলগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত