মসজিদে বিস্ফোরণ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগের ত্রুটি খুঁজতে নির্দেশ ডিসির

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০৫ এএম

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন দগ্ধ রোগীদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম হান্নান সাউদ (৫০)। চার দিন চিকিৎসার পর গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল মারা যাওয়া হান্নান সাউদ বায়তুস সালাত জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিস্ফোরণের ঘটনায় তার শরীরের ৮৫ ভাগ পুড়েছিল। গত শুক্রবার এশার নামাজ চলাকালে মসজিদটিতে বিস্ফোরণের থেকেই হান্নান শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া দগ্ধ ৩৭ জনের মধ্যে ২৮ জন মারা গেলেন। সেখান থেকে মামুন নামে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল জানান, নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তার প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন বাকি আটজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যাদের প্রত্যেকের অবস্থা সংকটাপন্ন।

মৃত হান্নান সাউদের ছেলে শাহ জালাল সাউদ সাংবাদিকদের জানান, তাদের স্থায়ী বাড়ি পশ্চিম তল্লাতে। তার বাবা আগে ঠিকাদারি কাজ করতেন। তবে মৃত্যুর আগে তেমন কিছু করতেন না। পরিবারে তার মাসহ দুই বোন রয়েছে।

ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানান, নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে গত সোমবার ছয়জনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে রেখে যে তিনজনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল সবাইকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। বর্তমানে আইসিইউতে যারা চিকিৎসাধীন তাদের মধ্যে নজরুল ইসলামের শরীরের ৯৪, আবদুস সাত্তারের ৭০, আবদুল আজিজের ৪৭, মো. আমজাদ হোসেনের ২৫, ফরিদের ৫০, শেখ মো. ফরিদের ৯৩ ও কেনানের ৩০ ভাগ আগুনে পুড়েছে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগের ত্রুটি খুঁজতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশ : বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরবরাহ লাইনের ত্রুটি শনাক্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও আলাদা চিঠি দিয়ে এ ধরনের সমস্যা থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এ নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রোগী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানকার চিকিৎসকদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য এসেছি। উনারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছেন। নিজেদের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও কষ্ট করেছেন।’

মসজিদে বিস্ফোরণের কারণ জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই বলতে পারব না। ইতিমধ্যে রাজউক, তিতাস ও ইলেকট্রিসিটি সেবা সার্ভিসগুলোকে আমরা বলে দিয়েছি, এই নারায়ণগঞ্জ জেলায় আর বাকি যেসব স্থানে এ ঘটনাগুলো আছে, যেসব জায়গায় নজর দেওয়ার জন্য। বিশেষ করে মসজিদ কমিটির প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারিকে আমরা আলাদা চিঠি দিয়েছি, আপনারা প্রত্যেকটি ত্রুটি খোঁজেন, এ ক্ষেত্রে কারও সহযোগিতা লাগলে লিখিতভাবে জানান। আসলে জীবন চলে গেলে আমরা দৌড়ে আসি। আর জনগণকে আপনাদের মাধ্যমে জানাই, আপনারাও জনগণকে বলেন, তারা যেন আবেগপ্রবণ না হয়ে দ্রুত কোনো কিছু না করে। মসজিদ যেমন আমাদের প্রয়োজন, অন্যান্য জিনিসও আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু সেটা যেন আবেগপ্রবণ না হয়ে কোনো ব্যত্যয় ঘটিয়ে না করে। এ জায়গাগুলোতে আমরা কাজ করতে চাই।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘গাজীপুর বা আশপাশ জেলাগুলো বা শহরের পাশেই আরও বেশি ঘটে, এসব সবসময়ই আছে এই মুহূর্তে। সে ক্ষেত্রে আমি সেবা প্রদানকারী প্রত্যেকটা দপ্তর, বিশেষ করে ডিপিডিসি, পল্লী বিদ্যুতের জিএম এবং তিতাসকে চিঠি দিয়েছি যার যেখানে এই লিকেজ আছে, এ ক্ষেত্রে যদি জেলা প্রশাসকের সহায়তা দরকার হয়, কারও সহায়তা দরকার হয়, দ্রুত জানাতে বলেছি। আমরা এগুলো করব আর যদি এগুলো না করেন আপনাদের বিরুদ্ধে লেখব।’

গত শুক্রবার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজ চলাকালে বিস্ফোরণে প্রায় অর্ধশত মুসল্লি আহত হন। এদের মধ্যে দগ্ধ ৩৭ জনকে ওইদিন রাতেই শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল পর্যন্ত তাদের ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত