শান্তির শর্তে তালেবানদের উন্নয়ন প্রস্তাব চীনের

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০৭ এএম

আফগানিস্তানের তালেবান অধ্যুষিত এলাকায় সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে চীন। তবে এজন্য শর্তও জুড়ে দিয়েছে দেশটি। চীনের ভাষ্য, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর তালেবানরা যদি শান্তি বজায় রাখার প্রতিজ্ঞা করে তবেই তারা বিষয়টি বাস্তবায়নের চিন্তা করবে।

গতকাল মঙ্গলবার তালেবানদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে এমন একজন পাকিস্তান আদিবাসী নেতার বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়েছে, পেইচিংয়ের তরফ থেকে ইতিমধ্যে তালেবান এলাকায় এনার্জি ও সড়ক অবকাঠামো খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের আভাস মিলেছে। গত তিন-চার মাস ধরেই পেইচিং ও পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় এ বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠকও হয়েছে।

বেলুচিস্তানের এক আদিবাসী নেতা নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, চীনের কর্মকর্তারা বারবারই তালেবানকে তাদের এলাকায় সড়ক-অবকাঠামো নির্মাণ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সবসময়ই আফগানিস্তানে শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। চীন-তালেবান বৈঠকে অংশ নেওয়া ওই নেতা বলেন, প্রাথমিকভাবে সড়ক নির্মাণে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিলেও বিদ্যুৎ ও জালানি খাতেও বড় ধরনের বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, এ সড়কটি ব্যবস্থা তৈরি করে দেওয়ার পেছনে অবশ্য চীনের আরও কিছু স্বার্থ রয়েছে। দেশটি মধ্য এশিয়া থেকে তেল, গ্যাসসহ নানা ধরনের পণ্য পরিবহন করতে এ সড়ক ব্যবহার করে খরচ কমাতে চাচ্ছে।

জেমস ডরোসি নামে এক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলছেন, এ অঞ্চলে আসলে চীনের জন্য অনেক বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তারা যে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করতে চায় তা আফগানিস্তানের সব বড় শহরের ভেতর দিয়েই যাবে। যার ফলে শুধু তালেবান এলাকায় নয়, পুরো আফগানিস্তানই উপকৃত হবে। কারণ তাদের প্রস্তাবিত সড়কগুলোর মধ্যে ছয় লেনের সুবিশাল সড়কও আছে। তার মতে, পুরো প্রস্তাবে চীন তার নিজের স্বার্থ বেশি দেখলেও শান্তির শর্তটি আফগানদেরও বড় স্বার্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে অবশ্য চীন, আফগান বা তালেবান কারও কোনো প্রতিনিধির বক্তব্য নেওয়া হয়নি। তবে সংবাদের সত্যতার বিষয়টি বেশ জোর দিয়েই উল্লেখ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত