সিএনজি চালককে রাতভর মারধরের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে: প্রতিবাদে অবরোধ

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৫৮ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক সিএনজি চালককে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার সিএনজি চালকরা সড়ক অবরোধ করেন। তবে পুলিশ নির্যাতন করা হয়নি বলে জানায়।

জানা গেছে, মৌলভীবাজার ডাচ্ বাংলা ব্যাংক থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাঁচ লাখ টাকা তুলে ব্যাগে করে কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় আদমপুর বাজারে ফিরছিলেন যাত্রী অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুল ইসলাম (৫০)। সিএনজিতে আরো চার যাত্রী ছিলেন। কিন্তু  সিএনজি থেকে নামার সময় টাকার ব্যাগটি নিতে ভুলে যান তিনি। ওই ব্যক্তি টাকা হারানোর ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর সিএনজি চালক সাহেল মিয়াকে (১৭) রাতেই বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।

সাহেল মিয়ার পরিবার ও সিএনজি চালকরা জানান, রাতভর পুলিশের একটি দল আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করলে সাহেল অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুক্রবার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়।

তারা বলেন, এর প্রতিবাদে কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনী সিএনজি স্ট্যান্ডের চালকরা বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সিএনজি রাস্তায় রেখে চৌমুহনী চত্বরে সড়ক অবরোধ করে। 

অবরোধের খবর পেয়ে দুপুরে ওসি আরিফুর রহমান পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমেদের সহযোগিতায় সিএনজি অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি আলমাছ মিয়া, আব্দুল মুকিত ও খলিলুর রহমানের জিম্মায় আটক সিএনজি চালক সাহেলকে ছেড়ে দেন। চালককে ছেড়ে দেওয়ায় দুপুর দেড়টায় সিএনজি চালকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

সাহেলের মা রিনা বেগম বলেন, পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তার ছেলেকে ধরে নেয়ার সময় থেকে শুরু করে সারা রাত পিটিয়েছে। ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সৌমিত্র সিনহা বলেন, গণধোলাইয়ে সিএনজি চালক সাহেল আহত হয়েছেন জানিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসা করান।

অভিযোগের বিষয়ে বিজিবি সদস্য (অব.) নুরুল ইসলাম জানান, ৫ লাখ টাকা ব্যাগে করে সিএনজির সিটের পেছনে রেখে চালকের পাশে বসেছিলাম। কিন্তু ভুলে টাকার ব্যাগ গাড়িতে রয়ে যায়।  বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করি।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, যাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতেই চালককে ধরে আনা হয়েছিল। তবে চালকের অসংলগ্ন কথাবার্তায় রাতে বিভিন্ন স্থানে টাকা উদ্ধারের অভিযান চালানো হলেও টাকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবরোধের কারণে আপাতত তাকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের জিম্মায় ছাড়া হয়। পুলিশির নির্যাতনে বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, তার শরীরে আগের আঘাত থাকায় চিকিৎসা করানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত