দেনায় জর্জরিত কমিউনিটি সেন্টারের মালিকরা

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৩১ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গত মার্চ থেকে বিয়ে-শাদি সীমিত আকারে এবং সংগঠনগুলোর সভা-সেমিনার না থাকায় বিপাকে পড়েছেন মানিকগঞ্জের কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত শতাধিক পরিবারের সদস্যরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন তারা।

আগে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য দেড়-দুই মাস আগে কমিউনিটি সেন্টারে বুকিং দিতে হতো। সেখানে বর্তমানে মানিকগঞ্জে বন্ধ কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে জ্বলছে না লাল-নীল মরিচাবাতি কিংবা বাজছে না বিয়ের সানাই। ফলে কমিউনিটি সেন্টারের সঙ্গে জড়িতরা এখন কর্মহীন-বেকার।

মানিকগঞ্জ শহরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারের মধ্যে বধূবরণ, আশা, ডায়মন্ড ও সিটি ড্রিম কমিউনিটি সেন্টার অন্যতম। কিন্তু মার্চ থেকে এসব কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ থাকায় এর সঙ্গে জড়িত মালিক, ম্যানেজার, বাবুর্চি, কেয়ারটেকারসহ দুই শতাধিক পরিবার বিপাকে পড়েছে।

মানিকগঞ্জের প্রথম কমিউনিটি সেন্টার বধূবরণ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত। সরেজমিনে দেখা যায়, বধূবরণ এখন সুনসান নীরবতা। সপ্তাহের সাত দিনই একসময় এখানে সভা-সেমিনার কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে জমজমাট থাকত। এখন স্তব্ধতা বিরাজ করছে বধূবরণে।

বধূবরণ কমিউনিটি সেন্টারের মালিক লুৎফর রহমান আবু বলেন, ২০ বছর ধরে এ ব্যবসা করে আসছি। আমার জীবনে এত কষ্ট করতে হয়নি। প্রায় সাত মাস ধরে সেন্টার বন্ধ থাকায় এসি, লাইটসহ বিভিন্ন সামগ্রি অচল হয়ে গেছে। প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিলসহ কর্মচারীদের বেতন দিতে হচ্ছে।

সিটি ড্রিম কমিউনিটি সেন্টারের মালিক লাভলু বলেন, ছয় মাস ধরে কোনো কাজ নেই। কেয়ারটেকার, নাইট গার্ড, বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে। তা ছাড়া ব্যাংকের ঋণ তো আছেই। প্রণোদনাসহ ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ হলে ভালো হতো।

আশা কমিউনিটি সেন্টারের মালিক আবদুস সালাম বলেন, একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যদি বছরের অর্ধেক সময় বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে ব্যবসার কিছু থাকে? প্রথম তিন মাস ব্যাংকের কিস্তি দেওয়া বন্ধ ছিল। ধারদেনা করে কদিন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করব?

বাবুর্চি সামছুল হক বলেন, ছয়-সাত মাস ধরে কাজ নেই। কারও কাছে হাতও পাততে পারি না। স্বজনদের থেকে ঋণ করে সংসার চালাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত