যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূর মাথার চুল কেটে নির্যাতন

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:২৪ এএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় যৌতুক হিসেবে বাবার বাড়ির জমি শ্বশুরের নামে লিখে না দেওয়ায় এক গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নার্গিস খাতুন (৩০) নামে ওই নারীকে আহতাবস্থায় সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে শ^শুর হবিবর রহমান ও দুই জাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে মারধরের পর বঁটি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়। পরে গতকাল সোমবার নার্গিসকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নির্যাতনের শিকার নার্গিস খাতুন উধুনিয়া ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি একই গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নার্গিস খাতুন তার স্বামী শফিকুল ইসলামকে পাশে রেখে অভিযোগ করে বলেন, তার শ্বশুর হবিবর রহমানের নামে বাবার বাড়ির জায়গা লিখে না দেওয়ায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। প্রায় ১১ বছর আগে ভালোবেসে শফিকুল ইসলামকে বিয়ে করেন। এরপর স্বামী কিছু না বললেও তার শ্বশুর হবিবর রহমান, ভাশুর জামাল উদ্দিন ও শাহাদত হোসেন যৌতুকের জন্য তাকে ও তার বাবার বাড়ির লোকজনকে চাপ দিয়ে আসছে। দাবি অনুযায়ী যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় প্রায়ই তারা নির্যাতন করে। গত রবিবার রাতে শ্বশুর হবিবর ও অন্যরা যৌতুক হিসেবে বাবার বাড়ির জায়গা লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। তা অস্বীকার করায় শ্বশুর হবিবর রহমান ও দুই জাসহ অন্যরা তাকে মারধরের একপর্যায়ে বঁটি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়।

নার্গিসের স্বামী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভালোবেসে নিজের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করার কারণে তার বাবা-ভাই তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায়ই তাদের (স্বামী-স্ত্রী) নানাভাবে নির্যাতন করে আসছে। এরই একপর্যায়ে তারা নির্যাতনের পর নার্গিসের মাথার চুল বঁটি দিয়ে কেটে দিয়েছে।

উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, নার্গিসের শ্বশুরবাড়ির পাশেই তার বাবা ইব্রাহিমের একটি বাড়ি রয়েছে। যৌতুক হিসেবে হবিবুর রহমান ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ওই বাড়িটি লিখে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চাপ দিয়ে আসছে। বাড়িটি লিখে না দেওয়ায় মাঝেমধ্যেই নার্গিস ও তার স্বামী শফিকুল তাদের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, হবিবর রহমান ছেলে শফিকুলের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে একটি ডাকাতি মামলা দিয়ে হয়রানি করে। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও থানায় একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু হবিবর কোনো বিচারই মানে না।

উল্লাপাড়া থানার ওসি দীপক কুমার দাস দেশ রূপান্তর বলেন, ‘গৃহবধূ নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে এখনো কেউ থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত