নরসিংদীতে বউ পেটাতে বাধা

খুন হওয়া বাড়িওয়ালা দম্পতির আহত মেয়েরও মৃত্যু

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:১৮ এএম

নরসিংদীর শিবপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আহত বাড়িওয়ালার মেয়ে কুলসুম মারা গেছে। গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এই নিয়ে ওই ঘটনায় চারজন হত্যার শিকার হলো।

নিহত কুলসুম বাড়িওয়ালা তাজুল ইসলাম ও স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের মেয়ে। এর আগে তারা ভাড়াটিয়া নাজমা বেগমকে বাঁচাতে গিয়ে তার স্বামী বাদল মিস্ত্রির কোপে মারা যায়। এ সময় নাজমাও মারা যায়। এ ঘটনায় ভাড়াটিয়া বাদল মিস্ত্রি গ্রেপ্তার হয়েছে।

 জানা যায়, কাঠমিস্ত্রি স্বামী বাদল মিয়া শিবপুরের কুমড়াদি গ্রামে তাজুল মিয়ার বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রী নাজমা বেগমের সঙ্গে মনোমালিন্য চলে আসছিল। এর জের ধরে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত। এরই মধ্যে রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিহত নাজমার ঘর থেকে হইচই শুনতে পাওয়া যায়। শব্দ পেয়ে বাড়িওয়ালা তাজুল ইসলাম, তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম  ও নিহত নাজমা বেগমের ছেলে নাদিমসহ  আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এ সময় তারা বাদল মিয়াকে নিভৃত করার চেষ্টা করে। এতে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িওয়ালা ও উপস্থিত লোকজনকে এলোপাতাড়ি  কোপাতে থাকে। এতে ৫ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে আনার পর নাজমা ও মনোয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। অবস্থার অবনতি হলে তাজুল ইসলামকে ঢাকায় প্রেরণ করেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে আহত কুলসুম মারা যায়।

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত বাড়িওয়ালার মেয়ে কুলসুম মারা গেছে। আর গ্রেপ্তারকৃত বাদল মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে পাঠানো যায়নি। চিকিৎসা শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত