করোনার ঝুঁকি নিয়েই চলছে কোচিং

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:০০ পিএম

করোনার বিস্তার রোধে সারা দেশে স্কুল-কলেজ বন্ধ করেছে সরকার। স্বাস্থ্যবিধিসহ অন্যান্য আইনকানুন মানাতে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত পুলিশ-প্রশাসনও। এ সুযোগে কিশোরগঞ্জে নতুন কৌশলে স্কুল-কলেজ ব্যাগের বদলে শপিং ব্যাগে বই-খাতা নিয়ে চলছে বিভিন্ন শ্রেণির প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য। এসব প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারে মানা হচ্ছে না সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব। উপজেলার সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কতিপয় শিক্ষকসহ বেকার শিক্ষিত যুবকরা সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সকাল-দুপুর ও বিকেলে চালিয়ে যাচ্ছেন এসব প্রাইভেট ও কোচিং।

সরেজমিন দেখা গেছে, শহরে গাইটাল ফার্মের মোড়, খরমপট্টি, নগুয়া শেষ মোড়, হয়বতনগর, হারুয়া, পুরাতন কোর্ট রোড, গাইটাল শিক্ষকপল্লী, নিউটাউন, উকিলপাড়া এলাকায় নিজ নিজ বাসাবাড়ি কিংবা ভাড়ায় নেওয়া বাসাবাড়িতে নামে-বেনামে চলছে প্রাইভেট ও কোচিং। অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাপ্তাহিক পরীক্ষাও। বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালানো হচ্ছে এসব প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের বসিয়ে চলছে কার্যক্রম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে স্কুল-কলেজের ব্যাগের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে বাজার ও শপিংয়ের ব্যাগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বাসায় ঠিকমতো পড়ালেখা হচ্ছে না। স্যাররা বিভিন্ন কৌশলে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন জেনে পড়া শুরু করেছি।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, মাঠে খেলা বন্ধ থাকায় সারাদিন ফেইসবুক, মোবাইলে গেমস আর টিভি নিয়ে ব্যস্ত থাকছে। প্রাইভেট ও কোচিংয়ে না পড়লে পাস করতে সমস্যা হবে বলেই প্রাইভেট ও কোচিংয়ে পাঠাতে হচ্ছে।

একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কতিপয় শিক্ষক গোপনে নিজ নিজ বাসাবাড়িতে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে পড়ছে। এটা দ্রুত বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

জেলা শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হোসেন জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেউ যদি প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার খোলা রাখে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত