দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় পিরোজপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকে নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। তিন মামলায় দুজনের জামিন বাতিল প্রশ্নে দুদকের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ তিন সপ্তাহের এ রুল জারি করে।
তিন মামলায় গত ৭ জানুয়ারি আউয়াল দম্পতি হাইকোর্টে হাজির হয়ে জামিন চাইলে তাদের আট সপ্তাহের আগাম জামিন দেয় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা দুজন গত ৩ মার্চ পিরোজপুরের সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। ওইদিন শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল মান্নান তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে দুজনকে কারাগারে ডিভিশন দিতে আবেদন করেন আইনজীবীরা। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে। একই দিনে ওই বিচারককে তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ হয়। বিকেলে ফের জামিন আবেদনের পর বিচারক নাহিদ নাসরিন তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে দুদক হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করে দুজনের জামিন বাতিলের আর্জি জানায়।
ভিডিও কনফারেন্সে গতকাল দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আর আউয়াল দম্পতির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ আসাফুর রহমান।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার সামনে ও উপজেলা সদরের ভূমি অফিসের পেছনের ১৩ শতাংশ সরকারি খাসজমি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ ওঠে আউয়ালের বিরুদ্ধে। পরে সেখানে দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণ করে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিকে অফিস হিসেবে ভাড়া দেন। এতে চুক্তি করেন তার স্ত্রী লায়লা পারভীন। জালিয়াতির এ ঘটনা অনুসন্ধানের পর স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দুদককে জানান। তিনি চুক্তিতে উল্লেখ করা ছয় ব্যক্তির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। তবে সাবেক এমপি আউয়ালের স্ত্রী লায়লা পারভীনের নামে বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে গত বছর ৩০ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. আলী আকবর কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় বরিশালে তিনটি মামলা করেন। এর মধ্যে সাবেক এমপি আউয়ালকে তিনটিতে এবং তার স্ত্রীকে একটি মামলায় আসামি করা হয়।
