আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সরকারকে সরাতে হবে : ফখরুল

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:১৯ এএম

আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সরকারকে সরাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিন বলেছেন, আজকে আমরা যে অবস্থার মধ্যে পড়েছি এটা নিঃসন্দেহে সবচেয়ে কঠিন সময়। এখানে ভয়ভীতি-ত্রাসের মাধ্যমে এমন একটা অবস্থার তৈরি করা হয়েছে। এর থেকে মুক্তির একটাই উপায়, বদলে যাওয়া। বদলে যাওয়ার একটাই পথ, আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সরকারকে সরাতে হবে। গতকাল শনিবার মুক্ত সাংবাদিক অন্তর্ধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকদের জাতিকে বার্তা দিতে হবে এই বলে যে, এখন থেকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া দেশ, গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতাকেকাউকেই রক্ষা করা যাবে না, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকেও রক্ষা করা যাবে না। অবস্থা বদলে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। বদলে দেওয়ার একটাই পথ যে, আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরাতে হবে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনই হচ্ছে আমাদের একমাত্র পথ।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি। আসুন গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সবাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাই, সব রাজনৈতিক দলকে একখানে আনার চেষ্টা করি এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদের যে অধিকার, আমরা ১৯৭১ সালে যেটার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য, গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য, সেটাকে ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।

মির্জা ফখরুল বলেন,  এই সরকারের কোনো রকমের মূল্যবোধ নেই। আওয়ামী লীগ তো গণতন্ত্রই বিশ্বাসই করে না। আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসঙ্গে যায় না, কখনই যায় না। ওদের যে রসায়ন তার মধ্যে গণতন্ত্র হয় না। ওদের ভাবটাই হচ্ছে যে, আমি ছাড়া আর কেউ নেই। আমি একমাত্র দেশকে নিয়ন্ত্রণ করব, আমি দেশ চালাব, আমি সবকিছু। সেজন্য এই অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, পারস্পরিক সমস্যাগুলোকে দূর করতে হবে।

গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে আমার মনে হয় যে, যত সাংবাদিক এখন বেকার আছেন, এত বেকার বোধহয় কখনো ছিল না। পঁচাত্তর সালে বাকশাল করার পর চারটি পত্রিকা রেখেছিল, বাকিগুলো চলে গিয়েছিল। আজকে কিন্তু পরোক্ষভাবে ওইরকমই একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাদের কথা যারা বলবে, তাদের পক্ষে যারা থাকবে তাদের পত্রিকা চলবে, তাদের চ্যানেল চলবে, তাদের গণমাধ্যমগুলো চলবে। অন্য যারা আছে তাদেরগুলো তারা চলতে দেবে না।

তিনি বলেন, আমি জানি, আপনারা অনেক ভুক্তভোগী, আপনারা অনেক কষ্ট করছেন, অনেকের চাকরি নেই, অনেকে জেল-জুলুমের মামলার মধ্যে পড়েছেন। সাগর-রুনি থেকে শুরু করে অনেকে খুন হয়ে গেছেন, অনেকে গুম হয়ে গেছেন, অনেককে হত্যা করা হয়েছে। তারপরও আপনাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। কারণ আপনারাই হচ্ছেন গণতন্ত্রের মূলভিত্তি। মুক্ত সাংবাদিকতা বা মুক্ত সংবাদমাধ্যম না থাকলে গণতন্ত্র কখনই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মো. গোলাম পারোয়ার, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, ডিইউজের বাকের হোসাইন, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, নুরুল আমিন রোকন, বাছির জামাল, রাশেদুল হক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোরসালীন নোমানী, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি একেএম মহসিন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত