মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও তিনি মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তালিকাভুক্ত হয়ে সম্মানীসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছিলেন। এতে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে। এমনকি প্রতিবাদের ঝড় ওঠে তার পরিবারেও। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে তলব করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।
বিতর্কিত এই মুক্তিযোদ্ধার নাম হিরু মিয়া। তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাওয়ার কুমারজানীর প্রয়াত হাকিম উদ্দিনের ছেলে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে হিরু মিয়া সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন কি না জানেন না তার বড় তিন সহোদরসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। এছাড়া তিনি যে একজন মুক্তিযোদ্ধা জানেন না তার গ্রামেরই বাসিন্দা মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাসসহ গ্রামবাসীও।
তবে, জানতে চাইলে নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে আলমগীর হোসেন হিরু জানান, মির্জাপুর পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে একই কোম্পানিতে যুদ্ধ করেছেন তিনি।
অথচ কমান্ডার মোহাম্মদ আলী বলেন, ওই নামের (হিরু মিয়া) কেউ তার সঙ্গে বা তার কোম্পানিতে যুদ্ধ করেননি।
এত কিছুর পরও আলমগীর হোসেন হিরু নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে গোপনে তালিকাভুক্ত করেছেন নিজের নাম। গত কয়েক বছর ধরে ভাতাও উত্তোলন করছেন। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ইতিমধ্যে এক ছেলেকে পুলিশে এবং এক মেয়েকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিও দিয়েছেন। অপর ছেলেরও পুলিশে চাকরি হওয়ার পথে বলে জানা গেছে।
এদিকে যুদ্ধ না করেও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে গোপনে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দিনের পর দিন সরকারি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলে গত বছরের ডিসেম্বরে তার আপন বড় দুই ভাই আবদুল বাছেদ মুন্সী ও বাবুল হোসেন বাবু মিয়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও জামুকা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
জামুকা অভিযোগটি আমলে নিয়ে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষকে কার্যালয়ে হাজির হতে বলেছে।
অভিযুক্ত হিরুর বড় দুই ভাইয়ের মধ্যে আবদুল বাছেদ মুন্সী কয়েক মাস আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। অপর ভাই বাবুল হোসেন বলেন, ছোট ভাই যুদ্ধ না করেও প্রতারণার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম লেখানোতে সমাজে নানা ধরনের কথা শুনতে হয়। এছাড়া মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কেউ প্রতারণা করুক তাও আমরা চাই না। বড় ভাইয়ের ইচ্ছে ছিল এই অপবাদ থেকে মুক্তির। আমিও তাই চাই।
