মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে ভুয়া টিপসই দিয়ে সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার সকালে শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাব হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন এলাকাবাসী। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভুয়া টিপসই ব্যবহার করে গত ৫ বছর ধরে তাদের প্রাপ্য চাল উত্তোলন করে আসছেন ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মোছাব্বির মিয়া ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম। খাদ্য অধিদপ্তর কর্র্তৃক নিয়োগকৃত দুজন ডিলার এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শাহজাহান মিয়া ও আরজু মিয়া বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে সরকারি চাল বিতরণের জন্য সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের ৬১৫ জন হতদরিদ্রের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়। ২০১৬ সালে প্রথমবার চাল উত্তোলন করার কয়েক মাস পর ২য় বার চাল সংগ্রহ করতে গেলে উপজেলা অফিস থেকে কার্ডটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানান ডিলার পরিচয়ধারী ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জাহিদুল ইসলাম। বিষয়টি ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোছাব্বির মিয়াকে জানালে উপজেলা অফিসে খবর নিতে বলেন তিনি। এরপর উপজেলা অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারি ২০১৬ সাল থেকেই আমাদের নামে ভুয়া টিপসই দিয়ে চাল উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে প্রায় ৫ বছর ধরে অনেকের চালই আত্মসাৎ করেছেন তারা। এ ছাড়া খাদ্য অধিদপ্তর থেকে নিয়োগকৃত ২ জন ডিলার নিয়োগ করা হলেও মোছাব্বির ও জাহিদুলের যোগসাজশে তারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হয়। এর প্রতিবেদনও হাতে এসেছে। তবে এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।’
