পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:০১ এএম

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘড়িয়া) আসনের উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশে এবারই প্রথম সকাল ৮টার পরিবর্তে ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। একটানা চলবে বিকেল ৫টা পর‌্যন্ত।

উপ-নির্বাচন হলেও এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি।

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও নিজেদের অন্তঃকোন্দলে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ভিআইপি এই আসনটি হাতছাড়া বিএনপির।

১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এই আসনে সহজ জয় পায় আওয়ামী লীগ। তাইতো নিজেদের অন্তঃকোন্দল ভুলে এবার সেই আসনটি পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেমেছে দলটি।

দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলাম সরদার ও হাবিবুর রহমান হাবিব একত্রিত হয়ে নির্বাচনের মাঠে কাজ করছেন।

নির্বাচনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে বিএনপির নতুন অভিযাত্রা শুরু হবে বলে মনে করেন দল মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। আর বরাবরের মতো আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে এককাট্টা আওয়ামী লীগ। তাই নৌকার জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস।

বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয় বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী ও আটঘড়িয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৪ আসন।

এ জেলার ৫টি আসনের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে এই আসনটি বরাবরই বিবেচিত। ১৯৯৬ সাল থেকে টানা ২৪ বছর আসনটি রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দখলে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতা দখলে বিশ্বাসী নয়। ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করলে তা হবে বিএনপির দুরভিসন্ধি।

তিনি বলেন, আমি ছাড়াও আরও দুটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী সকল কাজ করছেন, তাদের কোনো ধরনের বাধা নেই। ফেয়ার ইলেকশন হবে এমনটিই দাবি করেন তিনি।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই এলাকার মানুষ বিএনপি সমর্থিত। এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি জয়লাভ করবে।

জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী, জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে অস্বস্তিকর পরিবেশ লক্ষ্য করেছি। ক্ষমতাসীন দলের বেপরোয়া মনোভাবপূর্ণ কার্যক্রম চলছে। পোস্টার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা ও পোড়ানো হয়েছে। কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানান, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ বলেন, ভোটারদের আস্থা অর্জনে তাদের ভোট কেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধকরণে নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য তারা প্রস্তুত বলেও জানান।

উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮১ হাজার ১১২ জন। মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১২৯টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত