হালকা প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিআইজিডির গবেষণা

ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় ৭৫% এন্টারপ্রাইজ মালিক

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২২ এএম

করোনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৬১ শতাংশ এন্টারপ্রাইজ কাঁচামাল সংকটে পড়েছে। এতে বেশির ভাগ এন্টারপ্রাইজকে উৎপাদন কমাতে বা পণ্যমূল্য বাড়াতে হয়েছে। এই কৌশল পুরোপুরি যথেষ্ট নয় এন্টারপ্রাইজগুলোর জন্য। কারণ, এন্টারপ্রাইজগুলোকে বিক্রি ও লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ার সঙ্গে ভাড়া, ইউটিলিটি বিল, কর্মীদের বেতন ইত্যাদির মতো ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ফলে ৭৫ শতাংশ এন্টারপ্রাইজ মালিক তাদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন।

প্রায় দুই হাজার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং (হালকা প্রকৌশল) প্রতিষ্ঠানের ওপর করা ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, লকডাউনের আগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এন্টারপ্রাইজগুলো যেমন লাভ করত, পরেও তাদের লাভের পরিমাণে তারতম্য হয়নি। ব্র্যাকের পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা প্রশিক্ষণের গুরুত্ব এই উপাত্ত থেকে বোঝা যায়। বিআইজিডি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আসাদুল ইসলাম ও বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট আতিয়া রহমান এই উপাত্ত তুলে ধরেন।

দেশে ২০ লাখের বেশি মানুষ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বা হালকা প্রকৌশল খাতে জড়িত। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বা এসএমই খাতের সবচেয়ে বড় অংশ এই লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত থেকে আসছে মোট জিডিপির ২ শতাংশ। এ খাতে করোনার প্রভাব ছিল বেশি।

গতকাল বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লকডাউনের সময়ে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এন্টারপ্রাইজগুলোর মধ্যে ২ শতাংশ পুরোপুরি এবং ২৯ শতাংশ আংশিকভাবে খোলা ছিল। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর ৬১ শতাংশ এন্টারপ্রাইজ পুরোপুরি খুলেছে। এক-তৃতীয়াংশের বেশি তাদের নিয়মিত কাজের সময় কমিয়ে এনেছে। কাজের পরিমাণ বাড়লেও ক্ষুদ্র ও অপ্রাতিষ্ঠানিক এন্টারপ্রাইজে করোনার আগের সময়ের চেয়ে বিক্রির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৫৫ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, কাজের ধরনের কারণে বিউটি পারলার, হোটেল, টেইলারিংয়ের মতো খাত ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং ব্যবসায়িক ধসের মুখে আছে।

কাজের ধরনকে হিসাবের বাইরে রেখে দেখা যায়, তুলনামূলক ছোট এন্টারপ্রাইজগুলো কভিডের কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। কভিডের আগে যেসব এন্টারপ্রাইজের তুলনামূলক কম পুঁজি ছিল তাদের লকডাউন-পরবর্তী সময়ে পুনরায় আগের মতো কাজ শুরু করার হার কম। একইভাবে, লকডাউনের পর তুলনামূলক কম পুঁজির এন্টারপ্রাইজে ৪৯ শতাংশ ধসের মুখে পড়েছে, উল্টো দিকে বেশি পুঁজির এন্টারপ্রাইজে এই হার ২৫ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ব্র্যাকের পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা প্রশিক্ষণ না পাওয়া এন্টারপ্রাইজের চেয়ে প্রশিক্ষণ পাওয়া এন্টারপ্রাইজগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে এবং বেশি লাভ করছে। অর্থাৎ, এ ধরনের প্রশিক্ষণ আরও বেশি এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া গেলে পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারবে এ খাত।

অন্যদিকে, এসএমই খাতের জন্য সরকারঘোষিত প্রণোদনাও এন্টারপ্রাইজগুলোকে এই সংকট থেকে উত্তরণের আশা জাগিয়েছে। তবে মাত্র ৬৩ শতাংশ এন্টারপ্রাইজ এই প্রণোদনার কথা জানে এবং মাত্র ৩ শতাংশ এই প্রণোদনার জন্য আবেদন করেছে এবং আরও অবাক করা তথ্য হলো, জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৯৬০টি এন্টারপ্রাইজের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি এন্টারপ্রাইজ এই প্রণোদনা লাভ করেছে। মহামারী শুরুর আগে সবচেয়ে বেশি লাভ করা এন্টারপ্রাইজগুলো লকডাউনের সময় খোলা ছিল বা তাদেরই বিক্রির পরিমাণ এখন সবচেয়ে বেশি। আবার সরকারের প্রণোদনার জন্য আবেদন করার হার তাদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি।

এন্টারপ্রাইজ মালিক ছাড়াও এসএমই খাতে কর্মরত কিছু নারী-পুরুষের ওপর জরিপ করা হয়। সেখানে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারটি নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি অনুসরণ করেছেন এবং বেশিদিন কাজ করেছেন। নারীদের চাকরি হারানোর পরিমাণ বেশি দেখা গেছে। আয় পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে পুরুষদের থেকে তারা পিছিয়ে আছেন। আসাদুল ইসলাম ও আতিয়া রহমান তাদের উপস্থাপনায় আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই লিঙ্গবৈষম্যকে উপেক্ষা করা হলে বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন ঝুঁকির মুখে পড়বে।

আরও বক্তব্য দেন বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বিআইজিডির সিনিয়র অ্যাডভাইজার মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নারায়ণ দাস, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. কাজী ইকবাল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত