ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হীনস্বার্থ উদ্ধারে সদ্য প্রয়াত হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফীর লাশ নিয়ে রাজনীতি করা ও কওমি অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা।
মাদ্রাসার দীর্ঘ সময়ের এই মহাপরিচালকের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলেও সোমবার এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন তারা।
এতে বলা হয়, শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা নির্জলা মিথ্যাচার ছাড়া কিছু না। এরপরও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হীনস্বার্থ উদ্ধারে আহমদ শফীর লাশ নিয়ে রাজনীতি করা ও কওমি অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ঠিক হবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, শাহ আহমদ শফী স্বজ্ঞানে এবং স্বেচ্ছায় মাদ্রাসার শুরা কমিটির কাছে (মহাপরিচালকের) দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন। তার মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছে। এই মৃত্যুতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত মর্মাহত।
এছাড়া মাদ্রাসার ছাত্র আন্দোলনে কোনো শিক্ষক, বাইরের কোনো সংগঠন কিংবা ব্যক্তির উসকানির অভিযোগও নাকচ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
এতে আরও বলা হয়, মাদ্রাসার বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নিয়মিত ক্লাস চলছে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক সবাই সন্তুষ্ট।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির প্রধান মুফতি আবদুস সালাম, সদস্য শেখ আহমদ ও মাওলানা ইয়াহিয়া, প্রধান শায়খুল হাদিস শিক্ষাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী প্রমুখ।
ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান আহমদ শফী। পরে তাকে প্রধান উপদেষ্টা করা হয়।
ওই দিন রাতেই আহমদ শফীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীসহ অনুসারীরা অভিযোগ করে আসছেন, আন্দোলনের সময় ছাত্ররা আহমদ শফীর কক্ষ ভাঙচুর করেন। জোর করে পদত্যাগপত্র নেন। এছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যথাসময়ে হাসপাতাল যেতে দেওয়া হয়নি।
