কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড়ের ধারে রাস্তায় দুই শিশুকে ধরে নিয়ে গলা ও হাতের কবজি কেটে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
আহত শিশুরা হল- রিয়াজ উদ্দিন (৭) ও রাজু আক্তার (১১)। তারা আপন ভাই-বোন।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার খুটখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া ঘাটি রাস্তার মাথা পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত রিয়াজ ও রাজু উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের গর্জনতলী এলাকার দিনমজুর আবদুচ ছবির ছেলে-মেয়ে। রিয়াজ স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ও রাজু আক্তার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত দুই ভাই-বোনকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সকালে আমি রাস্তা দিয়ে বাজার করতে যাওয়ার সময় পাহাড়ের ভেতর থেকে গলায় রক্তাক্ত অবস্থায় এক শিশু বের হয়ে আসে। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসা করলে পাহাড়ের ভেতরে তার বড়বোনকে কুপিয়ে আহতের কথা জানায়। রক্ত দেখে আমি চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে গুরুতর আহত ভাই-বোনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আহত শিশুর বাবা আবদুচ ছবির বলেন, সকাল ৮টার দিকে বাড়িতে ছেলে-মেয়েকে রেখে আমি ও আমার স্ত্রী মিনু আরা বেগম মিলে ঈদগাঁও বাজারে এনজিও’র কিস্তির টাকা দিতে যাই। সাড়ে ৯টার দিকে এসে বাড়িতে তাদের না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি।
একপর্যায়ে বাড়ির অদূরে পাহাড় থেকে আমার ছেলেমেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা। দুর্বৃত্তরা আমার ছেলে রিয়াজকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালায় ও মেয়েকে হাতের কবজি কেটে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি এলাকায় আবদুর রহিম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ২০ কড়া বসতভিটা জমি কিনি। নগদ এক লাখ টাকা পরিশোধ করে ওই জমিতে আমি বসতবাড়ি নির্মাণ করে বাস করে আসছি। জমি পরিমাপ করে দেয়ার পর বাকি ২০ হাজার টাকা পরিশোধের কথা ছিল। গত দু’দিন আগে আবদুর রহিম জমি পরিমাপ করে না দিয়ে আমার কাছে টাকা চায়। টাকা না দিলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকিও দেন তিনি। বাড়িতে আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগে আমার ছেলে-মেয়েকে ধরে পাহাড়ে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে।
চকরিয়া থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, দুই শিশুকে কুপিয়ে আহত করার খবর পেয়ে তাদেরকে হাসপাতালে দেখতে যাই। এ ঘটনায় আহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার এজাহার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।
