মার্জিন ঋণ বিধিমালায় আবারও সংশোধনী

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২০ এএম

আট বছর পর মার্জিন ঋণ বিধিমালায় পরিবর্তন আনার সাত দিনের মধ্যে আবারও তা সংশোধন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এবারের সংশোধনীতে মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ হার নামিয়ে আনা হয়েছে। সংশোধিত মার্জিন ঋণ নীতিমালা কার্যকরের সময়ও তিন মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২৮ জুলাই মার্জিন ঋণ নীতিমালা সংশোধন করে নতুন করে নির্দেশনা জারি করেছে এসইসি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সের ওপর নির্ভর করে পুরনো মার্জিন ঋণ নীতিমালায় পরিবর্তন আনে এসইসি। সূচক কম থাকলে বেশি ঋণ এবং সূচক বেশি থাকলে কম ঋণ এমন পদ্ধতি আরোপ করে এসইসি। গত ২১ সেপ্টেম্বর এসইসির মার্জিন ঋণের নির্দেশনায় বলা হয়, ডিএসইএক্স সূচক ৪০০০ পয়েন্টের নিচে থাকলে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ১ অনুপাত ১ হারে মার্জিন ঋণ দিতে পারবে। তবে ২৮ সেপ্টেম্বরের নতুন নির্দেশনায় মার্জিন ঋণের এই হারে সংশোধন এনে ১ অনুপাত শূন্য দশমিক ৭৫ করা হয়েছে। অর্থাৎ গ্রাহকের নিজস্ব ১০০ টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৭৫ টাকা মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে।

নতুন নির্দেশনায় ৪০০১ থেকে ৭০০০ পয়েন্ট পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচকের ক্ষেত্রে ১ অনুপাত শূন্য দশমিক ৫  হারে এবং ৭০০০ পয়েন্টের ওপরে সূচকের ক্ষেত্রে ১ অনুপাত শূন্য দশমিক ২৫ হারে মার্জিন ঋণ দিতে পারবে বলে বলা হয়েছে। এর আগের নির্দেশনায় সূচক যদি ৪০০১ থেকে ৫০০০ পয়েন্ট পর্যন্ত থাকে তাহলে মার্জিন ঋণের হার নির্ধারণ করা হয়েছিল শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর ৫০০১ থেকে ৬০০০ পয়েন্ট পর্যন্ত সূচকের ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণের হার নির্ধারিত হয়েছিল শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রাহক ১০০ টাকার বিপরীতে শেয়ার ক্রয়ে ৫০ টাকা ঋণ পাবেন। আর সূচক যদি ৬০০০ পয়েন্টে ওপরে থাকে তাহলে মার্জিন ঋণের হার হওয়ার কথা ছিল শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ।

গত ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশনাটি আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে গত সোমবার সংশোধন করা মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে এসইসি জানিয়েছে।

২০১২ সালের মার্জিন ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী বর্তমানে গ্রাহকের ১০০ টাকার বিপরীতে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ঋণ দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে যেসব শেয়ারের পিই রেশিও ৪০-এর নিচে রয়েছে, শুধু সেসব শেয়ারেই ওই ঋণ দেওয়া যায়। এবার পিই রেশিও বহাল থাকলেও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৪০০০ বা তার নিচে থাকলে গ্রাহককে ১০০ টাকার বিপরীতে ৭৫ টাকা ঋণ দিতে পারবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান।

২০১০ ও ২০১১ সালে পুঁজিবাজারে ধসের একটি বড় কারণ ছিল মার্জিন ঋণ। ওই সময়ে মার্জিন ঋণ নীতিমালায় ঘন ঘন পরিবর্তন আনা হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়ে। দরপতনের কারণে মার্জিন ঋণে থাকা গ্রাহকের পোর্টফোলিও ফোর্সড সেলের (বাধ্যতামূলক বিক্রি) আওতায় থাকলেও সরকার এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপে গ্রাহকের শেয়ার বিক্রি করতে পারেনি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে করে সে সময় মার্জিন ঋণে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে যায়। দীর্ঘ ৯ বছর পরও মার্জিন ঋণের ওই সংকট থেকে বের হতে পারেনি পুঁজিবাজার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত