কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের টোংরাদহ এলাকায় করতোয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত সোমবার রাতে হঠাৎ বাঁধটির প্রায় ৩০ মিটার (৬০ হাত) অংশ ধসে যায়। তীব্র বেগে পানি প্রবেশ করে ডুবে যায় ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, আমন ধানের ক্ষেত ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলি জমি। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে ৬টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। পানিবন্দির ঝুঁকিতে আরও কয়েকটি গ্রাম। গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমা পেরিয়ে যাওয়ায় গোবিন্দগঞ্জের দরবস্ত, শিবপুর, সাপমারা, নাকাই, কাটাবাড়ী, ফুলবাড়ী, হরিরামপুর, মহিমাগঞ্জ, রাখালবুরুজ ও তালুক কানুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকছে। এতে করে প্লাবিত হয়েছে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি। করতোয়ার পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঁধ উপচে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরেও। এতে করে প্লাবিত হয়ে পড়েছে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকা। এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে রোগী ও স্থানীয়দের। উপজেলার বন্যাকবলিতদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে নদ-নদীগুলোতে পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও যমুনা নদীতে দেখা দিয়েছে ভাঙন।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদ এবং তিস্তা, করতোয়া ও ঘাঘট নদীসহ জেলার সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে।’
আদিতমারীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৫০ ফুট ধস : তিস্তা নদীর বাম তীরে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সলেডি স্পার-২-এর দেড়শ ফিট ধসে গেছে। স্পার বাঁধটি রক্ষায় বালুর বস্তা ফেলে চেষ্টা করছেন স্থানীয়রাসহ পাউবোর লোকজন। সোমবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই ধসে পড়তে শুরু করে বাঁধটি। মুহূর্তেই বাঁধটির ৫০ ফুটের মতো ধসে যায় তিস্তা নদীতে।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, হঠাৎ বাঁধটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধটি রক্ষার্থে স্থানীয়দের নিয়ে জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় আমিনুর রহমান বলেন, ‘আইত (রাত) থাকি বালার (বালুর) বস্তা ফেলবার নাগছি (লাগছি)। বান্দ (বাঁধ) না টিকলে হামারা পথে বসি যামো।’ একই এলাকার হামিজ মিয়া বলেন, ‘বাবা হামারগুলার জন্যে একনা দোয়া করেন। আল্লা যেন হামাক রক্ষা করে। নইলে হামরা শ্যাষ হয়া যামো।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, ‘সলেডি স্পার বাঁধটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে কাজ করে যাচ্ছেন।’ লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, ‘বাঁধটি রক্ষা করা না গেলে ভাটিতে থাকা বাড়িঘর তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।’
