রাজধানীর রূপনগর এলাকা থেকে নাসিম রিয়েল এস্টেটের মালিক মো. ইমাম হোসেন নাসিম ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তার সালমাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের রূপনগরের বাসা ও চিড়িয়াখানা রোডের অফিস থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, ১ লাখ ৩৫ হাজার জাল টাকা, ১ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা, ৪টি ওয়াকিটকি সেট, ৬টি পাসপোর্ট, ৩৭টি ব্যাংক চেক বই ও ৩২টি মোবাইল সিম জব্দ করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজ্জামেল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘অন্যের খাসজমি দখল করে আবাসিক শহর গড়ে দেওয়ার নামে নাসিম রিয়েল এস্টেট প্রায় ৫ হাজার সাধারণ মানুষের সঙ্গে বায়না করে প্রত্যেকের থেকে ৫ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেয়। আর ২৫০ জনের সঙ্গে ভুয়া চুক্তিপত্র করে প্রত্যেকের থেকে ১২ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার নাসিম দীর্ঘদিন ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছেন।’
এই র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘পূর্ব ঠিকাদারি কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০০২ সাল থেকে নাসিম তার রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সাইনবোর্ড খাসজমিতে টাঙিয়ে রাখতেন। তিনি সাভারের কাউন্দিয়ায় খাসজমি দখল করে আবাসিক শহর গড়ে দেওয়ার নামে প্রায় ৫ হাজার গ্রাহকের থেকে বায়না করে অর্থ নিয়েছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন ২৫/২৯ চিড়িয়াখানা রোডে নাসিম গ্রুপের কার্যালয়ে অভিযানের সময় তার মালিকানাধীন ১৬টি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সালমা এগুলো দেখভাল করতেন। ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সময় নাসিমের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা করেছেন। সারা দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের ৫৫টি প্রতারণা মামলায় নাসিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর বাইরে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা-সংক্রান্ত অসংখ্য জিডি ও অভিযোগ রয়েছে। এই দম্পতির বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও প্রতারণার মামলা করা হবে।
নাসিম ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত একটি কোম্পানির ঠিকাদারির কাজ করেন। তবে ২০০২ সাল থেকে তিনি প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে, সেগুলোর মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছেন। এ পর্যন্ত তার মালিকানাধীন ১৬টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো হলো নাসিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেড, নাসিম ডেভেলপার, নাসিম অ্যাগ্রো ফুড, নাসিম বাজার, এসবি ফাউন্ডেশন, ডা. বেলায়েত হোসেন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নাসিম পার্সেল ও কুরিয়ার সার্ভিস, সাপ্তাহিক ইমারত অর্থ, নাসিম শিপ বিল্ডার্স, নাসিম ইঞ্জিনিয়ারিং ও কনসালট্যান্সি, নাসিম ট্রেডিং, সাহানা আই হাসপাতাল, বাংলানিউজ ১৬, নাসিম ড্রিংকিং ওয়াটার, নাসিম সুগার ও নাসিম বেভারেজ লিমিটেড।
র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নাসিম নামে-বেনামে ৩২টি সিমকার্ড ব্যবহার করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে প্রতারণা করে এসেছেন। চারটি ওয়াকিটকি সেট ব্যবহার করে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেন। আলীউজ্জামান শিকদার নামে এক ব্যক্তি তার থেকে ৬ লাখ টাকা দরে ১০ কাঠা জমি কেনেন। ২০১৬ সালে টাকা পরিশোধ করলেও তাকে জমির মালিকানা বুঝে দেওয়া হয়নি।’
