একই স্থানে দুই পক্ষের কর্মসূচি, সংঘর্ষের শঙ্কা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ০৪:১৫ এএম

গণফোরামে ভাঙনের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী ১৩ অক্টোবর একই সময়ে একই স্থানে কর্মসূচি দিয়েছে বিবদমান দুই পক্ষ। এতে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে দলটির নেতাকর্মীরা।

এদিকে আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় কাউন্সিলে না এলে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনবেন গণফোরামের কাউন্সিলররা। দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেছেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়ার স্বেচ্ছাচারিতা, কর্তৃত্ববাদিতা, একগুঁয়েমি ও দলের গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে। দল পরিচালনা করা হবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। ঢেলে সাজানো হবে দলকে।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর আরামবাগের ইডেন কমপ্লেক্সের দলীয় কার্যালয়ে দেশ রূপান্তরকে তিনি এসব কথা বলেন।

গণফোরাম একাংশের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারা এখন দলের কেউ নন। তাই তারা কী করল, কী করল না তা নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই। তারা যা খুশি তাই করতে পারে। তারা দল থেকে চলে যাওয়াতে আমরা নতুন করে দল গোছাব। ঢেলে সাজাব।’

তিনি বলেন, ‘গত ১২ মার্চ ৭০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন ড. কামাল হোসেন। তাছাড়া এই আহ্বায়ক কমিটির কিছু কাজ রয়েছে, সাংগঠনিক কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আছে যা আমরা এই সভায় অনুমোদন করব।’

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘দলের কিছু নেতা জাতীয় প্রেস ক্লাবে বর্ধিত সভা করার পর গত সপ্তাহে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় আমরা বৈঠক করেছিলাম। তখন বর্ধিত সভা করার সিদ্ধান্ত হয়। বর্ধিত সভায় রাজনৈতিক, সাংগঠনিকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।’

তিনি বলেন, ‘গণফোরাম বলতেই সবাই ড. কামাল হোসেনের দল মনে করেন। তাকে বাদ দিয়ে কেউ কিছু করতে চাইলে তা জনগণ মানবে না।’

বয়সের কারণে ড. কামাল হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে দলটির সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জো বাইডেন, মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের বয়স কত? বয়স এখানে কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়।’

গঠনতন্ত্র মেনে দল পরিচালনা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাউকে বহিষ্কার করতে হলে দলের সভা করতে হয়। কিন্তু তারা দলের কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করলেও কোনো সভা করেননি। কেউ এককভাবে এটি করতে পারেন না। কোনো ব্যক্তি কাউকে বহিষ্কার করতে পারেন না। কিন্তু তারা কোনো সভা না করে আমাদের চার নেতাকে বহিষ্কার করেন।’      

একই দিন প্রেস ক্লাবে গণফোরামের দুই অংশের কর্মসূচি ঘোষণা : গঠনতন্ত্র না মেনে দলের একাংশ গত ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বর্ধিত সভা করার পর এবার ড. কামাল হোসেন ও রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বাধীন মূল গণফোরাম আগামী ১৭ অক্টোবর প্রেস ক্লাবে কেন্দ্রীয় কমিটির সভা ডেকেছে। অন্যদিকে সারা দেশে ধর্ষণের প্রতিবাদে গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, সাবেক নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও অধ্যাপক আবু সাইয়িদের নেতৃত্বাধীন অংশ প্রেস ক্লাবের বাইরে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

একই দিন একই সময়ে কর্মসূচি ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ইঙ্গিত করে ড. রেজা কিবরিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মানুষ স্বভাব পাল্টাতে পারে না। ১৭ বছর বয়সে যেমন ছিলেন এখন ৭০ বছর বয়সেও একই রয়ে গেলেন।’

কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা মহসিন মন্টু উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘সারা দেশে ধর্ষণ বেড়ে গেছে। ধর্ষণের প্রতিবাদে আগামী ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে গণফোরাম। এ ছাড়া সরকারের অগণতান্ত্রিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।’

এ সময় মন্টু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের তরফ থেকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সম্মেলন সফল করতে দলের নেতাদের সমন্বয়ে ১৪টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির নেতারা শিগগিরই সারা দেশ সফর করবেন। এ ছাড়া নতুন করে সদস্য সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ‘গণফোরাম একটি মুক্তিযুদ্ধের ধারার রাজনৈতিক দল। গণতান্ত্রিকভাবে দল পরিচালনা, নেতা নির্বাচন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও আকাক্সক্ষা পূরণের জন্য কমিটি ভেঙে দেওয়া ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে কাউকে বহিষ্কার করা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। কেবল কেন্দ্রীয় কমিটিই পারে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে। বিগত বর্ধিত সভায় বহিষ্কৃত ড. রেজা কিবরিয়াসহ চারজনের নামে গণফোরামের তথাকথিত আহ্বায়ক কমিটির সভা ডাকার কোনো এখতিয়ার নেই। গণফোরামের সারা দেশের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবেন না। জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

মোস্তফা মহসিন মন্টু, অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, খান সিদ্দিকুর রহমান, মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের, আইয়ুব খান ফারুক, অ্যাডভোকেট মো. হেলাল উদ্দিন, লতিফুল বারী হামীম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত