বরিশালে এক যুবকের সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌন মিলন করার অভিযোগে শামসুল হক নামে একজন আইনজীবীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। রাজিব রায় (২৪) নামে এক যুবকের দায়ের করা মামলায় পুলিশ তাকে আদালতে পাঠালে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রোববার বিকেল ৩টায় আদালতের বিচারক মারুফ আহমেদ প্রকাশ্য আদালতে শুনানি শেষে আসামি শামসুল হকের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত শনিবার রাতে রাজিব রায় (২৪) কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনজীবী শামসুল হকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত শামসুল হক নগরীর মুসলিম গোরস্থান রোড এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য।
নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগে বিচারের আগ পর্যন্ত ওই আইনজীবীর সনদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বরিশালের সুশীল সমাজ প্রতিনিধিরা। আইনজীবীর অপরাধ প্রমাণিত হলে তার দায় আইনজীবী সমিতি নেবে না বলে জানিয়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানান, গত শনিবার রাতে রাজিব রায় কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনজীবী শামসুল হকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৮ মাস ধরে শামসুল হক তার সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে আসছে। অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্কের ভিডিও ক্লিপ পুলিশকে দেন তিনি। এ ঘটনায় মামলা রুজুর পর ওই রাতেই আইনজীবী শামসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে গতকাল রোববার বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ওসি আরও জানান, অভিযোগকারী যুবক রাজিব রায় নগরীর কাউনিয়া প্রথম লেনের বাসিন্দা বিভূতি রায়ের ছেলে। অভিযুক্ত রাজিবকে তৃতীয় লিঙ্গের যুবক বললেও রাজিব নিজেকে তৃতীয় লিঙ্গের বলে দাবি করেন না। তবে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষর সঙ্গে চলাফেরা করেন তিনি।
বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও খোকন চন্দ্র জানান, গতকাল রোববার বিকেল ৩টায় আদালতের বিচারক মারুফ আহমেদ প্রকাশ্য আদালতে শুনানি শেষে আসামি শামসুল হকের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই ফজলুল হক জানিয়েছেন, অভিযোগকারী যুবকের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গতকাল রোববার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার জানান, ভিকটিমের শারীরিক এবং ডায়াগনোসিস পরীক্ষার রিপোর্ট আদালতে পাঠানো হবে।
একজন সিনিয়র আইনজীবীর নৈতিক অবক্ষয়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ সাজেদা। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি মামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনজীবীর সনদ বাতিলের দাবি জানান তিনি।
তবে যুবকের সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক করার অভিযোগ অস্বীকার করেন পুলিশের হেফাজতে থাকা আইনজীবী শামসুল হক।
এদিকে পুলিশের তদন্ত ওই আইনজীবীর অপরাধ প্রমাণিত হলে বিষয়টি নিন্দনীয় হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম। অপরাধ প্রমাণিত হলে এর দায় ব্যক্তির ওপর বর্তাবে। আইনজীবী সমিতি কোনোভাবেই এর দায় নেবে না বলে জানান তিনি।
