যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হেরে যেতে পারেন এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকানরা। গত ৯ অক্টোবরের জরিপ বলছে, পয়েন্টে ট্রাম্পের তুলনায় বাইডেন এগিয়ে। জরিপ অনুসারে, ট্রাম্পের পয়েন্ট ৪২ আর বাইডেনের ৫২ দশমিক ১ পয়েন্ট। রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ ভোটারদের দোদুল্যমানতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
গত শুক্রবার টেড ক্রুজ সিএনবিসিকে বলেন, ‘ভোটের দিন রাগান্বিত ভোটাররা যদি আশার আলো দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়েছে যায়, তাহলে তারা সহজেই ন্যান্সি পেলোসি এবং চাক শুমারের দিকে ঝুঁকে যেতে পারে। আমার মনে হয় এবারের নির্বাচন বেশ ভীতিকর হতে যাচ্ছে। আমরা হোয়াইট হাউজ এবং হাউজ অব কংগ্রেসে হেরে যেতে পারি। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা হতে পারে।’
ডেমোক্র্যাটরা যদি হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে ক্ষমতা ধরে রাখে এবং সিনেট ও হোয়াইট হাউজের দখল নেয়, তাহলে ফেডারেল সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই চলে যাবে তাদের হাতে। নর্থ ক্যারোলিনা ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন রিপাবলিকান সিনেটর থম তিল্লিস। গত বৃহস্পতিবার তিনি আরও বলেন, ‘সিনেটে আমরা যেভাবে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করি, তাদের (ট্রাম্প প্রচারণা শিবির) পদ্ধতি এ থেকে ভিন্ন। আমরা তো সিনেটেও মাস্ক পরি এবং একে অন্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখি। কিন্তু তারা এমনটা করছে না। ফলে ভোটের ফলাফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কিছু বলার থাকবে না।’
টেড ক্রুজ বা তিল্লিসের মতো আরও অনেক শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান ট্রাম্পের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। বিতর্কের সময় আরিজোনার সিনেটর মার্থা ম্যাকসালিতো বলতেই চাননি তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন দিচ্ছেন কি না। আর সিনেটর জন করনিয়ন তো প্রকাশ্যেই করোনাভাইরাস নিয়ে প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেছেন। ফলে এবারের নির্বাচন যে ট্রাম্পের জন্য বেশ দুশ্চিন্তার হবে তা বলার অপেক্ষা রাখছে না।
অন্য এক রিপাবলিকান সিনেটর ম্যাককনেল তো গত দুই মাসে একবারও হোয়াইট হাউজে যাননি। তিনি অবশ্য করোনাঝুঁকির কথা বলে হোয়াইট হাউজ থেকে দূরে থেকেছেন। কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে যে তার মতনৈক্য রয়েছে তা প্রশাসনিক পর্যায়ে সবার জানা। আর রিপাবলিকান শিবিরে ৭৮ বছর বয়সী ম্যাককনেলের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা এক কথায় ট্রাম্পের চেয়েও বেশি।
এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমবার প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার হোয়াইট হাউজে নির্বাচনী সভায় তিনি জানালেন, দারুণ লাগছে তার। ওই সভাতেই একটানে নিজের মাস্ক খুলে ফেলতে দেখা গেছে। ট্রাম্প বলেন, আমার খুব ভালো লাগছে। আগামী নির্বাচন আমাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা ঘর থেকে বের হোন এবং ভোট দিন। প্রতিপক্ষকে খোঁচা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা অবৈজ্ঞানিকভাবে লকডাউন করে করোনার প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া ধ্বংস করে দেবে।’
ট্রাম্প মাস্ক খুলে ফেললেও তার বক্তব্য শুনতে যারা উপস্থিত হয়েছিলেন তাদের সবাইকে মাস্ক পরতে দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট আক্রান্ত হওয়ার পর তার সভায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি আরোপ করেছে হোয়াইট হাউজ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে করোনাভাইরাস ও অর্থনৈতিক ইস্যু জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হয়ে দেখা দেবে।
