সোনার বার ‘আত্মসাৎ’ করে যুবলীগ নেতার মানববন্ধন!

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২০, ১২:৩৭ এএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ ওরফে রঞ্জু গোয়েন্দা পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রমূলক ও অন্যায়ভাবে’ আটকের পর ‘লাঞ্ছিত’ করার অভিযোগ এনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন। গতকাল রবিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর ব্যানারে তিনি এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।

তবে পুলিশ বলছে, দুই কাতারপ্রবাসীর ২০ ভরি ওজনের সোনার দুটি বার আত্মসাতে পরিকল্পিতভাবে রাজু আহম্মেদ রঞ্জু পুলিশের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

মানববন্ধন-সমাবেশে রঞ্জু বলেন, ‘কোনো অভিযোগ ছাড়াই ষড়যন্ত্রমূলক ও অন্যায়ভাবে ডিবির এসআই জাহিদ আমাকে আটক, লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোথাও কোনো অভিযোগ করলে এসআই জাহিদ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। এ ঘটনা পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেলকে জানানো হয়েছে।’

এ ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আবু আব্দুল্লাহ জাহিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আজাইপুর গ্রামের মৃত একরামুল হকের ছেলে নাসিরুল ইসলাম পুলিশ সুপার বরাবর রঞ্জুর বিরুদ্ধে সোনার বার আত্মসাতের অভিযোগ এনে আবেদন করলে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে আসি। রঞ্জু এ সময় নিজেকে যুবলীগের নেতা পরিচয় দিলে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমানুল্লাহ বাবু ও সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আসাফুদ্দৌলাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। বাবু ও দৌলা ঘটনা শোনার পর সোমবার (আজ) বিকেলে মীমাংসায় বসে বিষয়টির সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিজেদের জিম্মায় রঞ্জুকে নিয়ে যান।’

নাসিরুল অভিযোগ করেন, তার চাচাতো ভাই আবদুল কাদের ও ভাগনে মোরসালিনের সঙ্গে কাতারে কাজ করতেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মিস্ত্রিপাড়ার রঞ্জু। পাসপোর্টে তার নাম রাশিদুল ইসলাম। বয়স ২৮ এবং তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ২ অক্টোবর রঞ্জু দেশে ফেরার সময় কাতার থেকে বৈধভাবে ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়ে কেনা ২০ ভরি  ওজনের সোনার দুটি বার তাদের (কাদের ও মোরসালিনের) পরিবারকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রদান করেন। কিন্তু বার দুটি না পৌঁছে দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন রঞ্জু। পরে তার বাড়ি গিয়ে বার চাইলে নানা রকম টালবাহানা করে বলেন, বার দুটি পুলিশ নিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমানুল্লাহ বাবু বলেন, মীমাংসার আগেই মানববন্ধন হয়ে গেল!

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রাকিব বলেন, সোনার বার আত্মসাৎ করার ঘটনায় একজন অভিযোগ করলে রঞ্জুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত