করোনাকালে মাইক ও মোটরবাইকে স্কুল

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ০২:৪৬ এএম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের থাবা থেকে শিশুদের রক্ষা করতে বিশ্বজুড়েই স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যতিক্রম নয় ভারতও। করোনার প্রাথমিক ধাক্কার পর বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর ধারাবাহিকতায় ভারতেও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। কিন্তু দুর্বল অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে সব শিক্ষার্থীর পক্ষে অনলাইন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা সহজ নয়। বিশেষ করে ভারতের প্রত্যন্ত অনেক অঞ্চল যেখানে ইন্টারনেট এখনো পৌঁছায়নি, সেখানে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম কোনো কাজেই আসে না।

এমন প্রতিকূলতার মাঝেই কিছু মানুষ এগিয়ে এসেছেন শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ থেকে। শিশুদের পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার জন্য কিছু শিক্ষক বিকল্প পদ্ধতি তৈরি করেছেন। তারা লাউডস্পিকার বা মাইক ও মোটরবাইক ব্যবহার করছেন শিশুদের পড়ালেখা করানোর জন্য। ভারতের গুজরাট রাজ্যের কিছু শিক্ষক শিশুদের পড়ালেখা করানোর ক্ষেত্রে বেছে নিয়েছেন প্রচলিত ব্যবস্থার বিকল্প ব্যবহার। যে মাইক দিয়ে এতদিন রাজনৈতিক সভা-সেমিনারে গলাবাজিতে ব্যবহার হতো, এবার সেই মাইক দিয়েই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। শিক্ষার্থী চাইলে বাসায় বসে বা ঘরের বাইরের কোনো স্থানে বসেও পড়ালেখা করতে পারছেন। এ শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষক দীপিকাবেন বিবিসিকে বলেন, ‘স্কুল বন্ধ হলেও আমরা পড়ালেখা চালিয়ে নিতে চাই। এজন্য আমরা লাউডস্পিকার ব্যবহার শুরু করি। আমার গ্রামের প্রতি ঘরে ঘরে গিয়েছি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে, তারা যাতে আমরা লাউডস্পিকার ক্লাসে যোগ দেয়।’ গ্রামের পঞ্চায়েতপ্রধান জানান, গ্রামের ৮০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী এখন লাউডস্পিকারের মাধ্যমে শিক্ষা নিচ্ছে। গ্রামের মানুষদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়, ফলে তাদের পক্ষে দামি মোবাইল ও কম্পিউটার কেনা সম্ভব নয়।

ছত্তিশগড়ের কিছু শিক্ষক গ্রামে গ্রামে মোটরবাইকে করে যান শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করানোর জন্য। শিক্ষক একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে ঘণ্টা বাজালে শিক্ষার্থীরা ঘর থেকে বই-খাতা নিয়ে বের হয়ে আসে। এমনই একজন শিক্ষক রুদ্র রানা। তিনি বলেন, ‘স্কুল বন্ধ হওয়ায় আমি চেয়েছি শিক্ষার্থীদের কাছেই স্কুলকে নিয়ে যেতে। আমি একটা চকবোর্ড, ছাতা আর কিছু বই নিয়ে তাদের কাছে চলে যাই। প্রতিদিন আমি শিশুদের পড়াতে যাই। শিশুরা নিরাপদ দূরত্ব থেকে পড়ালেখা করে। আর এভাবেই একেক স্থানে ক্লাস নিচ্ছি আমি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত