গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদক বিক্রির পাওনা টাকা আদায় করতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মো. শামীম ওরফে আপন (২৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরের এ ঘটনায় ওইদিন রাতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক বিক্রির পাওনা টাকা আদায় করতে আপনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
গতকাল শনিবার মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার ইলতুৎমিশ জানান, হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তাররা মাদক কারবারি ও সেবনকারী জানিয়ে ইলতুৎমিশ বলেন, জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তাররা হলো প্রধান আসামি মো. জব্বার ওরফে জয় (১৯), সুমন ইসলাম (৩০), আরমান শেখ (১৯), আল আমিন ওরফে শামীম (১৯)। শুক্রবার রাতে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের ধরা হয়।
শুক্রবার দুপুরে টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় আপনকে। তার বাড়ি ময়মনসিংহের আজমপাড়া এলাকায়। সাতাইশ ব্যাংকপাড়া এলাকায় একটি ভাড়াবাসায় সপরিবারে থাকত।
স্থানীয়রা জানান, আপন মাদকসেবী ছিল। পুলিশের সোর্স পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা সুমন কয়েকজনকে নিয়ে মাদক ব্যবসা করে আসছে। এই মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আপনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। এর জেরে শুক্রবার দুপুরে ওই মাদক ব্যবসায়ীরা আপনকে একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
নিহতের স্ত্রী লাকি আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী কিছুদিন মাদক সেবন করেছিলেন। পরে তিনি তা ছেড়ে দেন। পুলিশের সোর্স সুমন আমার স্বামীকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা চাইত। গত সপ্তাহে পুলিশ নিয়ে আমাদের বাসায় যায় সুমন। এ সময় আমার স্বামীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় সুমনের।’
