এশিয়ায় কে শক্তিশালী

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:২৯ এএম

বৈশ্বিক রাজনীতিতে ক্রমেই এশিয়া গুরুত্বপূর্ণ স্থান নিচ্ছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যেও এশিয়া তার শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। সম্প্রতি সিডনিভিত্তিক লওয়ি ইনস্টিটিউটের এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্সে ২৬ জাতি ও অঞ্চলের ওপর সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শক্তিশালী দেশ ও অঞ্চল কোনটি তা নিরূপণ করার চেষ্টা করা হয়েছে বিভিন্ন ফ্যাক্টর থেকে।

করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় দুর্বল পদক্ষেপের কারণে বৈশ্বিক নেতৃত্বের আসন থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। করোনাভাইরাস ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক বাজে সম্পর্ক ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কচ্ছেদের বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রকে গত চার বছরে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে।

লওয়ি এশিয়ান পাওয়ার অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক হার্ভি লেমাহিয়ু এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অনেক হিসাব পাল্টে দিয়েছে মহামারী। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমস্যার পাল্লা ভারী করে দিয়েছে মহামারী, পাশাপাশি সুনামও ক্ষুন্ন করেছে। করোনার কারণে দেশটির অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণেও অনেকটা সময় লাগবে।’ একই সময়ে এশিয়ায় অর্থনৈতিকভাবে ক্রমশ শক্তিশালী অবস্থানে আছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়েছে ২০২৪ সাল সময়ের মধ্যে, আর চীন মহামারীর মধ্যেই কৌশল খাটিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে নিয়েছে।

লওয়িও ইনডেক্সে এশিয়ায় জাপানের পর চতুর্থ শক্তিশালী দেশ ভারত। করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া ছাড়াও পেইচিংয়ের পলিসির কাছে ধরা খেয়েছে দেশটি। চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাছাকাছি যেতে ভারতের ২০৩০ সাল সময় লাগবে। হার্ভির মতে, এশিয়ার ক্ষমতার দৌড়ে ভারত আগের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। ২০২০ সালের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্য অঞ্চলের তুলনায় এশিয়ার অর্থনীতি বেশ শক্তিশালী হলেও এই অঞ্চলের ৩৭৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ মহামারীর কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষমতার হিসেবে এশিয়ায় তৃতীয় অবস্থানে আছে জাপান। স্বল্প সম্পদ ব্যবহার করে গোটা অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আছে দেশটি। প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে দেশটি গত কয়েক দশকের তুলনায় অনেক অগ্রগতি লাভ করেছে। একাধিক দেশের সঙ্গে সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে জাপান।

রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া এশিয়ার শীর্ষ দশ শক্তিশালী দেশের মধ্যে আছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ক্রমশ বাড়তে থাকলেও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশগুলো ভালো অবস্থানে আছে। তবে চলতি বছরে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ক্ষমতার চর্চায় অনেকটা এগিয়েছে তাইওয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কারণে চীনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাইওয়ান। পেইচিংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে তাইপে কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু পেইচিং এখনো তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল বলে মনে করে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং সাম্প্রতিক এক ভাষণে দেশের সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে তিনি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতেও পিছপা হবেন না এমন ইঙ্গিত দিয়েছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি। বসে নেই তাইওয়ানও, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ক্রয় করেছে চীনের আগ্রাসন রুখে দেওয়ার জন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত