গ্রিসে যাওয়ার টাকা না দেয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন, আসামি ধরছে না পুলিশ

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৫৯ পিএম

বিদেশে যাওয়ার টাকা দিতে না পারায় মাদারীপুরে লতা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে ঘর ছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে গৃহবধূর স্বামী ও স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস হওয়ার কথা হলেও তা না হওয়ায় মামলা করা হয়। তবে সেখানেও বিচার না পেয়ে বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন নির্যাতনের স্বীকার ওই গৃহবধূ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের হুগলি গ্রামের হারুন ব্যাপারীর ছেলে রাসেদ ব্যাপারীর (২১)সঙ্গে একই গ্রামের রফিক শেখের মেয়ে লতা আক্তারের (১৯) সাথে দীর্ঘ ৩ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর এ বছর ৩ মার্চ ৩ লাখ ৫০হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে লতার ওপর মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে রাসেদ ও তার পরিবার। লতা ও তার পরিবার ন্যায় বিচারের জন্য চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন সালিস সংস্থায় ঘোরাঘুরি করেও বিচার না পাওয়ায় মামলা করতে বাধ্য হন।

দুটি মামলা করার ২০দিন পার হলেও আসামিকে গ্রেপ্তার কতে পারেনি পুলিশ। আদালত থেকে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

লতা আক্তার সাংবাদিকদের কাছে বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমাকে টাকার জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়ে আসছে। এক পর্যায় আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর আমি স্বামীর বাড়ি যেতে চাইলেও আমাকে আমার স্বামীর পরিবার ও স্বামী বাড়িতে তুলতে চায় না। বরং আমার স্বামীর বাড়ির লোকজন নানা ভাবে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি মামলা করেছি সেটারও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। অনেক দিন হলো আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছে তারপরও পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার করছে না।

লতা আক্তারের মা রওশনারা বেগম বলেন, আমার মেয়ের স্বামী গ্রিস যাবে বলে আমাদের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছে। আমি বিয়ের সময় নগদ ২ লাখ টাকা দিয়েছি তিন ভরি স্বর্ণ দিয়েছি। টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়েকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এলাকার মানুষ অনেক চেষ্টা করেছে তাদের সঙ্গে মীমাংসা করে দিতে, কিন্তু তারা টাকা ছাড়া আমার মেয়েকে ঘরে নিবে না। তাই আমার মেয়ে বাধ্য হয়ে মামলা করায় আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে।  এদিকে পুলিশও আসামি ধরছে না। রবিবার চেয়ারম্যান দুই পক্ষকে ডেকেছিল কিন্তু তারা আসেনি।

কুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, আমার কাছে মহামান্য আদালত শিশু ও নারী নির্যাতন মামলার তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন সেই লক্ষ্যে রবিবার দুই পক্ষকে ডাকলে মামলার প্রধান আসামি না আসায় সময় পিছিয়ে দিয়েছি।

অভিযুক্ত রাসেদ ব্যাপারীর পলাতক থাকায় তার মা রাশিদা বেগম জানান, আমার ছেলে কোথায় আছে আমরা জানি না। ছেলের বউ কি করবে তারটা সে জানে। আমরা এ ব্যাপারে কিছু জানি না। তাছাড়া আমার ছেলে রাসেদের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন মামলা হয়েছে, মামলায় যা হবার হবে।

মামলার তদন্ত অফিসার সাইদুল জানান, আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ হাতে পেয়েছি। দ্রুত যাতে আসামি ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, আমার চেষ্টা করছি আসামি গ্রেপ্তার করার জন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত