নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, দায়িত্বরত সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি, গালিগালাজের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের মামলায় (ইসি) হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সন। গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের বেঞ্চ তাকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দেয়।
জামিনের শর্তে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তে সাক্ষীদের প্রভাবিত করা যাবে না, স্থানীয় প্রশাসনকে কোনো ভয়ভীতি দেখানো যাবে না এবং জামিনের আবেদনকারী (নিক্সন চৌধুরী) তদন্ত কর্মকর্তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।
গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) জামিনের আবেদনটি করা হয়। জামিন নিতে গতকাল সকালে কর্মী-সমর্থক সহযোগে হাইকোর্টে আসেন নিক্সন চৌধুরী। আদালতে তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসি রূপা।
নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে গত ১০ অক্টোবর চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন, সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশোভন আচরণ, গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগে গত ১৫ অক্টোবর মামলা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের দিন সেখানকার একটি ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া ও বুথের সামনে ধূমপান করার সময় একজন পোলিং এজেন্টকে আটকের ঘটনায় চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করে ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে এমপি নিক্সনের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি সংবলিত টেলিফোন আলাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। তবে, মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সন দাবি করেন ওই অডিও রেকর্ডটি সুপার এডিটেড করে ভাইরাল করা হয়েছে।
নিক্সন চৌধুরীর আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘আমরা আইনগতভাবে দেখিয়েছি যে, এভাবে কারও টেলিফোন কনভারসেশন রেকর্ড করার ক্ষমতা কারও নেই। এটি রেকর্ডিং সাক্ষ্য হিসেবে আসতেই পারে না। নিয়মানুযায়ী কারও কল রেকর্ড করতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষরে অনুমোদন লাগে। এছাড়া ইতিপূর্বে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বলেছে যে, কারও অজান্তে কল রেকর্ড ও তা ফাঁস করা বেআইনি। সংবিধানেও নাগরিকের যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মিছিল, মিটিং, শোডাউন করে তিনি (নিক্সন চৌধুরী) নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে। কিন্তু আসামি তো একজন। একজন আসামি মিছিল, মিটিং, শোডাউন করে কেমন করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌসি রূপা বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
