বায়ুদূষণ

২০১৯ সালে ৫ লাখ নবজাতকের মৃত্যু

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৯ পিএম

বিশ্বে ২০১৯ সালে প্রায় পাঁচ লাখ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বায়ুদূষণে। মৃত এই নবজাতকদের অধিকাংশই এশিয়ার ভারত ও সাব-সাহারার দেশগুলোতে। স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারের নতুন গবেষণা মতে, ওই নবজাতকদের দুই-তৃতীয়াংশেরই মৃত্যুর কারণ রান্নার জ্বালানি থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া। ভারতে জন্মের প্রথম মাসের মধ্যেই গত বছর ১ লাখ ১৬ হাজার ও সাব-সাহারায় ২ লাখ ৩৬ হাজার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট অ্যান্ড ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনস গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ প্রকল্পের অংশ এই গবেষণায় বৈশ্বিক দূষিত বায়ুর কারণে মানব শরীরে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, প্রথমেই বায়ুদূষণের শিকার হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা। এই দূষণের ফলেই তাদের শরীরে বেড়ে ওঠা শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দূষণের কারণে নবজাতকদের কম ওজন ও সময়ের আগেই ভূমিষ্ঠ হওয়ার ঘটনা ঘটে। ভারত ও আফ্রিকায় এ দুই কারণেই অনেক শিশু মারা যায়।

এইচইআইয়ের প্রেসিডেন্ট ড্যান গ্রিনবায়ুম বলেন, ‘আমাদের আগামী সমাজের জন্য নবজাতকদের মৃত্যু খুবই ভয়াবহ সংবাদ। নতুন করে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ বলছে, দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারা আফ্রিকার নবজাতকরা সর্বাধিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ওই দুই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান ও রান্নাঘরে তৈরি হওয়া বিষাক্ত গ্যাসের হার ক্রমশ কমে আসছে, কিন্তু দেশগুলোতে সার্বিক বায়ুদূষণ কমার কোনো লক্ষণ নেই।’

গবেষণায় আরও বলা হচ্ছে, ২০১৯ সালে সারা বিশ্বে বায়ুদূষণে ৬৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ, তামাক ও খাদ্যাভ্যাসজনিত মৃত্যুর চেয়েও এখন মানুষ বায়ুদূষণে বেশি মারা যাচ্ছে। গবেষণায় আরও বলা হয়, ‘করোনাভাইরাসের এই সময়ে অনেক দেশই বহুদিন পর নীল আকাশ ও তারকাখচিত রাত দেখতে পেয়েছে। বহু বছর পর এমন দিন ও রাত দেখতে পেয়েছে মানুষ। এই নীল আকাশই বলে দেয়, মানুষ তার চারপাশকে কতটা দূষিত করে রাখে স্বাভাবিক সময়ে।’ বায়ুদূষণ নিয়ে বিগত সময়েও অনেক বড় বড় রিপোর্ট হওয়ার পরেও টনক নড়েনি বিশ্ব নেতৃত্বের। করোনা মহামারীর এই সময়ে লকডাউনের কারণে মানুষের চলাচল ও শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় পৃথিবীজুড়েই বায়ুর মান কিছুটা ভালো হয়েছে। কিন্তু চীনের মতো দেশ তাদের অতিরিক্ত উৎপাদন অব্যাহত রাখায় বায়ুর মান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত