নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলার মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। নিজেদের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি দাবি করেছে, এর মধ্যে মাত্র দুটি ভিডিওর সত্যতা পেয়েছে তারা। সেখানে আজারবাইজানি বাহিনী কর্র্তৃক আর্মেনীয়দের ওপর নিপীড়নের আলামত দেখা গেছে। ইউরোপের মানবাধিকার পরিস্থিতি নজরদারিতে নিয়োজিত শীর্ষ সংস্থা কাউন্সিল অব ইউরোপ নিশ্চিত করেছে, তারা ভিডিও হাতে পেয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করবে। তবে আজারবাইজান সরকার দাবি করেছে, ভিডিওগুলো ভুয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুইপক্ষের সেনাবাহিনীকেই যুদ্ধবন্দি এবং প্রতিপক্ষের সেনাদের মরদেহের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তবে এর বেশিরভাগ ভিডিও ভুয়া বলে দাবি করেছে বিবিসি। টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আজারবাইজানের একজন যুদ্ধবন্দিকে এক আর্মেনিয়ান সেনার দ্বারা গুলিবিদ্ধ হতে দেখা যায়। তবে বিবিসির দাবি, ওই ভিডিওটি আসলে রাশিয়ার একটি ভিডিও, যেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ২০১৩ সালে প্রথমবার শেয়ার করা হয়েছিল। তবে বিবিসি যে দুটি ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পেরেছে, সেগুলো টেলিগ্রামে আজারবাইজানের সমর্থক একটি নামহীন রুশ চ্যানেলে গত সপ্তাহে প্রকাশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা দুই আর্মেনীয় আজারবাইজান সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। আরেকটি ভিডিওতে ওই দুই আর্মেনীয় নাগরিককে হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করতে দেখা যায় আজারবাইজান সেনাবাহিনীকে। নিহত হওয়া দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের পরিচয়ও প্রকাশ করেছে আর্মেনিয়ার কর্র্তৃপক্ষ। বিবিসি নিশ্চিত করেছে যে দুই ভিডিওতেই নির্দেশ প্রদানকারী ব্যক্তি আঞ্চলিক বাচনভঙ্গিতে কথা বলা আজারবাইজানি নাগরিক। আর প্রথম ভিডিওতে দেখতে পাওয়া বন্দিদেরই দ্বিতীয় ভিডিওতে হত্যা করা হয়। আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিডিওগুলোকে ভুয়া হিসেবে দাবি করেছে এবং এই ধরনের ভিডিও প্রকাশ করে উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে। ভিডিও ক্লিপগুলো অবশ্য প্রকাশিত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়। পরদিনই আজারবাইজানের প্রসিকিউটর জেনারেল ঘোষণা দেন যে, ওই ভিডিওগুলো যে ভুয়া তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন তারা।
