সহকর্মীকে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর দায়ে ৩ যুবকের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৪২ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল হাতিয়ে নিতে সহকর্মী রেজাউল ইসলামকে (১৮) হত্যা ও আগুনে পুড়িয়ে লাশ গোপনের চেষ্টার দায়ে সুইট আলম (২৯), মেকদাদ বিন মাহাতাব ওরফে পলাশ (২৯) ও হাসান জামিল(৩২) নামে তিন যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত দায়রা জজ বিএম তারিকুল কবীর এ রায় দেন বলে নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাড.আব্দুল হামিদ।

এ ছাড়া কয়েকটি ধারায় তাদের সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর এবং তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড তিন হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পলাতক আসামী হাসান জামিলের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয় আদালত।

নিহত রেজাউল ইসলাম (১৮) দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানার আন্ধারমুহা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে ।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী নওগাঁ জেলার মান্দা থানার বারিল্যা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে সুইট আলম, দিনাজপুর জেলার চিবিরবন্দর থানার দক্ষিণ পলাশবাড়ি গ্রামের মাহাতাব উদ্দীনের ছেলে মেকদাদ বিন মাহাতাব ওরফে পলাশ এবং ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী থানার ভানোর সরকারপাড়া গ্রামের বজির উদ্দীনের ছেলে হাসান জামিল।

মামলার বিবরণে জানা যায়, রেজাউল ইসলাম স্থানীয় টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে লেখাপড়ার পাশাাপশি ওয়ার্ল্ড ভিশন-২১ নামে একটি মাল্টিলেবেল কোম্পানিতে চাকরি করত। চাকরির সুবাদে দণ্ডিত আসামিদের সঙ্গে রেজাউলের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তারা দিনাজপুরের পাবর্তীপুরে গিয়ে ওই কোম্পানির নতুন অফিস খোলার কাজ করার সময় রেজাউলের মোটরসাইকেলের প্রতি অপর বন্ধুদের চোখ পড়ে। তারা ওই মোটরসাইকেল নিজেরা হাতিয়ে নিতে রেজাউলকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং তাকে আসামি হাসান জামিলের বাড়ি এলাকা জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর কৈমারী গ্রামে নিয়ে আসে।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ মার্চ সন্ধ্যায় দণ্ডিত আসামিরা রেজাউল ইসলামকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর কৈমারী গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় এবং পূর্বপরিকল্পনা মতে তারা রেজাউল ইসলামের ঘাড় মটকে ও গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে। পরে তার পড়নের কাপড় ও বাঁশঝাড়ের শুকনা ডালপাতা দিয়ে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে বিকৃত করে। হত্যার পর আসামিরা নিহতের মোটরসাইকেল আসামি জামিলের আত্বীয়র বাড়িতে রেখে কর্মস্থলে ফিরে যায়। ঘটনার দু’দিন পর পুলিশ ওই বাঁশঝাড় থেকে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করে একটি হত্যা মামলা রুজু করে।

মোটরসাইকেলসহ রেজাউল নিখোঁজ হওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করলে র‌্যাব মাঠে  নামে এবং হত্যায় জড়িত সন্দেহে ওই বছরের ২২ মে দণ্ডিত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করলে হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়। পরে পুলিশ আসামিদের প্রদত্ত স্বীকারোক্তি মোতাবেক নিজনের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৪ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী অ্যাড. আব্দুল হামিদ বলেন, মামলার এজাহার, আসামিদের স্বীকারোক্তি ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন।

উচ্চ আদালত থেকে একটি ভুয়া জামিননামা নিম্ন আদালতে দাখিল করে হাসান জামিন পলাতক বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত