বাইডেনকে ওষুধ কোম্পানির উপঢৌকন!

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৬ পিএম

কড়া নাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ভোটের দিন। আর তিন দিন পরেই নির্ধারিত হবে কে হচ্ছেন দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। কার হাতে উঠছে দেশটির শাসনভার। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করা জরিপ বলছে, এখনো হোয়াইট হাউজে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন। জরিপের এ ফলাফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের প্রতিনিধিত্ব না করলেও পপুলার ভোটের একটা যৌক্তিক আভাস দেয়। আর সেই হাওয়া বুঝেই হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বাইডেনের দিকে ঝুঁকেছে। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে যেসব প্রতিষ্ঠান রিপাবলিকানদের সমর্থন ও অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছে তারাও এবার ডেমোক্রেট তহবিলে দিচ্ছেন বিপুল অর্থ। বিশেষ করে করোনা বিপর্যস্ত সময়ে ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে যদি বাইডেন জিতে যান তবে তিনি যে বিনামূল্যে জনগণকে করোনার টিকা ও ওষুধ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেই বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়েই ওষুধ কোম্পানিগুলো তার তহবিলে বিরাট অঙ্কের টাকা দিয়েছে।

রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ শিল্প পরিচালিত পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি প্রতি নির্বাচনের আগেই দলগুলোর তহবিলে বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়ে থাকে। তবে গতানুগতিকভাবে এ অর্থের বেশিরভাগই যায় রিপাবলিকান তহবিলে। এ বছর নির্বাচনের তহবিলে ১৩ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে এবার তারা ডেমোক্রেট তহবিলেও এর বড় একটা অংশ দিয়েছে। এই ১৩ মিলিয়ন ডলারে ৫৪ শতাংশ তারা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তহবিলে আর বাকি ৪৬ শতাংশ বাইডেনের তহবিলে। অথচ ২০১৬ সালের নির্বাচনে একেবারে নগণ্য অনুদান দিয়েছিল তারা ডেমোক্রেটদের। ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও তাদের প্রায় সব অনুদানই ছিল রিপাবলিকান শিবিরে।

দেশটির বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফাইজার, অ্যামজেন, অ্যাভি ইনক ও জন অ্যান্ড জন ২০১৬ সালের তুলনায় ২০২০ সালে ডেমোক্রেট তহবিলে বিপুল অর্থ দিয়েছে। ২১০৬ সালে ফাইজার যেখানে রিপাবলিকান তহবিলে অনুদানের ৬৩ শতাংশ দিয়েছে সেখানে এবার দিয়েছে ৫১ শতাংশ।

রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত এ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে করোনা মহামারী। সর্বোচ্চ মৃত্যু ও রোগীর এই দেশে ট্রাম্প প্রশাসনে মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনতে এক প্রকার ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্পের উপেক্ষার বিপরীতে ডেমোক্রেটরা এটাকে ভালো ইস্যু হিসেবে তৈরি করতে পেরেছে। বিভিন্ন জরিপেও এর প্রভাব দেখা গেছে।

মহামারীর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেসব ব্যবস্থা নিয়েছেন তার পক্ষে সমর্থন তুঙ্গে ওঠে মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তখন তিনি সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন এবং ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে রাজ্যগুলোর জন্য ঘোষণা করেছিলেন ৫ হাজার কোটি ডলার। জরিপ কোম্পানি ইপসসের হিসাব অনুসারে, সে সময় ৫৫ শতাংশ আমেরিকান তার গৃহীত পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু অক্টোবরে এসে সেই সমর্থন ৩০ শতাংশে এসে ঠেকেছে। মার্চে নিজ দলে এ ইস্যুতে ট্রাম্পের সমর্থন ছিল প্রায় ৯০ শতাংশের মতো। কিন্তু ২৭ অক্টোবরের হিসাব দেখাচ্ছে তা ৭৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অথচ বাইডেন বরাবরই ওবামা কেয়ারে গুরুত্বের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন এবং বারবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি নির্বাচিত হলে সবাইকে বিনামূল্যে করোনা টিকা ও ওষুধ সরবরাহ করবেন। এজন্যই হয়তো ওষুধ কোম্পানিগুলো তার তহবিলে বিপুল অর্থ দিচ্ছে এক প্রকার উপঢৌকন হিসেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত