ফ্রান্সে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২০, ০৩:০৬ এএম

ধর্মীয় কারণে কোনো সহিংসতা বাংলাদেশ সমর্থন করে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘ফ্রান্সে যে ঘটনাগুলো ঘটে গেছে সেগুলো নিন্দনীয়। আমরা এর নিন্দা জানাই।  আমরা ধিক্কার জানাই। তবে আমরা একইসঙ্গে মনে করি যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনো ধরনের উক্তি বাক স্বাধীনতার নামে বলার ক্ষেত্রে কিছু দায়িত্ব আছে। সেটিও আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।’ গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোনো ব্যক্তি বা দলনির্ভর নয়। এটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত। সেই হিসেবে আমি মনে করি না যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের যে বাজার রয়েছে সেটিতে (নির্বাচনের) কোনো প্রভাব পড়বে। যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে সেটিও যথেষ্ট ঊর্ধ্বমুখী।’

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘অনেকে প্রতিবাদ করেছে এবং সেখানে ফ্রান্সের বয়কটের বিষয়টি এসেছে। আমরা সবাইকে বলব ধৈর্য ধরার জন্য, সংযত হওয়ার জন্য। ধর্মীয় বিষয়গুলোকে যেন অর্থনৈতিক ইস্যুর সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলা হয়।’

উল্লেখ্য, ফ্রান্সে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক এক ক্লাসে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখানোর কারণে শিক্ষককে হত্যার ঘটনায় ফ্রান্সজুড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ‘মৌলবাদী ইসলামের’ বিপরীতে তার দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। এ নিয়ে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্পর্ক ধরে রাখাটাই কাজ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো ইঙ্গিত পাইনি যে কোনো ব্যক্তির জয়লাভের কারণে এর বিপরীত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে। আমাদের যে দাবিগুলো আছে তারা বিভিন্ন কারণে কিছু সুবিধা স্থগিত করেছিল। তার জন্য কূটনৈতিক চেষ্টা থাকবে সেগুলো পুনঃস্থাপন করার জন্য। তবে অবশ্যই যদি সরকার পরিবর্তন হয়, তবে নতুন করে শুরু করতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। কেউ বলতে পারছে না কে জিতবে। তবে অনেকে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে রেখেছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি স্টিফেন বিগ্যানের সফরের সময়ে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বিষয়ে আলোচনা নিয়ে ধোঁয়াশার ব্যাপারে সচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা আমাদের কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাব দেননি। ওই দিন বিগ্যান আমাদের সাধারণভাবে বলেছেন ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা বলেছি অর্থনৈতিক যে কোনো প্রস্তাবে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত।

ভাসানচরে রোহিঙ্গা পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে ৩০৬ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে অবস্থান করছে। আমরা আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত