পটুয়াখালীর বাউফলে এক সরকারি কর্মকর্তাকে কোপানোর হুমকি দিয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন কনকদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেজবা উদ্দিন তালুকদার (৪০)। এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা (৪৮) ও তার পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আনছার উদ্দিন গত ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় কনকদিয়া বাজারে যান। এ সময় তার সামনে কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন হাওলাদার (৫০) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানকে গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করেন আনছার উদ্দিন। এতে শাহিন তার ওপর চড়াও হন এবং একপর্যায়ে তাকে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় আনছার মামলা করলে গত মঙ্গলবার শাহিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠালে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। এর জেরে আনছারকে কোপানোর হুমকি দিয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন মেজবা উদ্দিন।
ফেইসবুক পোস্টে মেজবা উদ্দিন লেখেন, ‘আনছার উদ্দিন মোল্লা রান্দার (রামদা) কোপ খাওয়ার জন্য তৈরি হো (হও)।’ এ ছাড়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি শাহিন চেয়ারম্যানের পক্ষ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারকেও হুমকি দিয়েছেন।
আনছার উদ্দিন বলেন, ‘আমি ঢাকায় চিকিৎসার জন্য এসেছি। খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশ্যে কোপানোর হুমকি দেওয়ায় স্বজনরাও আমাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমি ঢাকা থেকে এসে এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেব।’
মেজবা উদ্দিন বলেন, ‘আমার আইডি হ্যাক করে কেউ ওই স্ট্যাটাস দিয়েছে। এরই মধ্যে তা মুছে ফেলা হয়েছে।’ তবে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনের কাছের লোক বলেও দাবি করেন।
